কবিতা

বিজয়িনী

বিজয়িনী – কাজী নজরুল ইসলাম হে মোর রাণি!    তোমার কাছে হার মানি আজ শেষে।আমার বিজয়-কেতন লুটায় তোমার চরণ-তলে এসে।   আমার সমর-জয়ী অমর তরবারী     দিনে দিনে ক্লানি- আনে, হ’য়ে ওঠে ভারী,   এখন এ ভার আমার তোমায় দিয়ে হারি,   এই হার-মানা-হার পরাই তোমার কেশে।।      ওগো জীবন-দেবী।     আমায় দেখে কখন তুমি ফেললে চোখের জল,আজ […]

বিজয়িনী Read More »

ঘোর কেটে গেলে

ঘোর কেটে গেলে -আবিদ আনোয়ার হয়তো এখনও আছি অর্ধস্ফুট গোলাপের মতো– বোঝেনি শরীর-সত্তা কাকে বলে পূর্ণ জাগরণ; দরিদ্র ইন্দ্রিয়গুলো  চিনেছে যে বস্তুবাস্তবতা কখনও জাগ্রত হলে চিনে নিতো আরেক জীবন। যদি এ-রহস্যমালা কোনোদিন এই গূঢ় অন্তর্বাস খোলে হয়তো দেখবো কিছু বর্গক্ষেত্র ঢুকে বসে আছে অসংগত পৃথিবীর বেমক্কা বর্তুলে: প্রকৃত রাজার কাঁধে গোলামের তকমা তুলে দিয়ে গোলাম

ঘোর কেটে গেলে Read More »

বিদায়-বেলায়

বিদায়-বেলায় – কাজী নজরুল ইসলাম তুমি অমন ক’রে গো বারে বারে জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না,       জল-ছল-ছল চোখে চেয়ো না।   ঐ কাতর কন্ঠে থেকে থেকে শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না,       শুধু বিদায়ের গান গেয়ো না।।   হাসি দিয়ে যদি লুকালে তোমার সারা জীবনের বেদনা,   আজো তবে শুধু হেসে যাও, আজ বিদায়ের দিনে কেঁদো

বিদায়-বেলায় Read More »

কোলাজ

কোলাজ -আবিদ আনোয়ার নীলের ডোরাকাটা সবুজ মাছরাঙা গেঁথেছে লাল ঠোঁটে রুপালি মৌরলা বেরুবে ছাইরঙা গলিত বিষ্ঠায় তবু সে নিয়তিকে লেজের চাঁটি মারে অপার নিষ্ঠায়                     জানালা খুলে ব’সে প্রায়শ রাতে দেখি                     আকাশে দল বেঁধে মেঘেরা খেলা করে                     হা-করা কালো তিমি চাঁদকে গিলে খায়                     আঁধার পেট ফুঁড়ে তবুও প্রাণপণে                     জোছনা ঝলকায় নিবিড়

কোলাজ Read More »

জনৈক মাকড়ের কাছে প্রার্থনা

জনৈক মাকড়ের কাছে প্রার্থনা -আবিদ আনোয়ার বোনো তুমি, যত পারো বুনে চলো কৌটিল্যের জাল ক্রমশ সারল্য থেকে ছুটি নিয়ে আমিও আজকাল তোমার নিপুণ শিল্পে আত্মাহুতি দেয়ার আহ্লাদে আবিষ্ট মাছির মতো পড়তে চাই নানারূপ ফাঁদে– কেননা চুড়ান্তে যাবো; নিরিবিলি জীবনের স্বাদ চেখেও দেখেছি–এর অন্তর্গত কী এক বিষাদ অদৃশ্য নরকে টানে। না এমন খণ্ডমৃত্যু নয়, আমূল নিশ্চিহ্ন

জনৈক মাকড়ের কাছে প্রার্থনা Read More »

হুলোর গান

হুলোর গান – সুকুমার রায় বিদ্‌ঘুটে রাত্তিরে ঘুট্‌ঘুটে ফাঁকা,            গাছপালা মিশ্‌মিশে মখ‌্‌মলে ঢাকা! জট্‌বাঁধা ঝুল কালো বটগাছতলে,            ধক্‌ধক্ জোনাকির চক্‌মকি জ্বলে। চুপচাপ চারিদিকে ঝোপ ঝাড়গুলো,            আয় ভাই গান গাই আয় ভাই হুলো। গীত গাই কানে কানে চীৎকার ক’রে,            কোন্ গানে মন ভেজে

হুলোর গান Read More »

মূর্খ মাছি

মূর্খ মাছি – সুকুমার রায় মাকড়সা                সান্‌-বাঁধা মোর আঙিনাতে                জাল বুনেছি কালকে রাতে,                ঝুল ঝেড়ে সব সাফ করেছি বাসা।                আয় না মাছি আমার ঘরে,                আরাম

মূর্খ মাছি Read More »

শিশুর দেহ

শিশুর দেহ – সুকুমার রায় চশমা-আঁটা পণ্ডিতে কয় শিশুর দেহ দেখে- “হাড়ের পরে মাংস দিয়ে, চামড়া দিয়ে ঢেকে, শিরার মাঝে রক্ত দিয়ে, ফুসফুসেতে বায়ু, বাঁধল দেহ সুঠাম করে পেশী এবং স্নায়ু।” কবি বলেন, “শিশুর মুখে হেরি তরুণ রবি, উৎসারিত আনন্দে তার জাগে জগৎ ছবি। হাসিতে তার চাঁদের আলো, পাখির কলকল, অশ্রুকণা ফুলের দলে শিশির ঢলঢল।” মা বলেন, “এই দুরুদুরু মোর বুকেরই বাণী, তারি গভীর

শিশুর দেহ Read More »

হুঁকোমুখো হ্যাংলা

হুঁকোমুখো হ্যাংলা – সুকুমার রায় হুঁকোমুখো হ্যাংলা বাড়ি তার বাংলা           মুখে তার হাসি নাই দেখেছ? নাই তার মানে কি?      কেউ তাহা জানে কি?           কেউ কভু তার কাছে থেকেছ? শ্যামাদাস মামা তার আফিঙের থানাদার,           আর তার কেহ নাই এ-ছাড়া – তাই বুঝি একা সে মুখখানা

হুঁকোমুখো হ্যাংলা Read More »

হরিষে বিষাদ

হরিষে বিষাদ – সুকুমার রায় দেখছে খোকা পঞ্জিকাতে এই বছরে কখন কবে ছুটির কত খবর লেখে, কিসের ছুটি কঁদিন হবে। ঈদ্ মহরম দোল্ দেওয়ালি বড়দিন আর বর্ষাশেষে- ভাবছে যত, ফুল্লমুখে ফুর্তিভরে ফেলছে হেসে এমন কালে নীল আকাশে হঠাৎ -খ্যাপা মেঘের মত, উথলে ছোটে কান্নাধারা ডুবিয়ে তাহার হর্য যত। “কি হল তোর?” সবাই বলে, “কলমটা কি বিঁধল হাতে? জিবে কি তোর দাঁত বসালি?

হরিষে বিষাদ Read More »