সুন্দরালি’র যৌথ অবচেতন

সুন্দরালি’র যৌথ অবচেতন -আবিদ আনোয়ার পউষের ঘাসে পরীর পেসাব ! বাতাস ধরেছে বরফের ভাব, ফাটা পায়ে হেঁটে হাল নিয়ে যায় ক্ষিপ্ত সুন্দরালি― বিগত রাতের ব্যর্থতা ভাবে: কী যেন কীসব দেখেছিলো খা’বে, পাঁচন উঁচিয়ে বিড়বিড় করে গাইটাকে দেয় গালি: বাঁয়ে ক’লে দেহি ডানমুহি যাস, মইত্যার মা’র দেমাগ দেহাস, হেট হেট হট, সিধা অ’য়া চল্, ফাডায়া ফালামু […]

সুন্দরালি’র যৌথ অবচেতন Read More »

অভিযাত্রীর খেরোখাতা

অভিযাত্রীর খেরোখাতা -আবিদ আনোয়ার দেখে নিয়ো এই মাতাল তরণি হারাবে না কোনো অপকুয়াশার ঘোরে: অবচেতনের গহীনেও দেখি প্রোজ্জ্বল বাতিঘর! ঘূর্ণির মহাসমুদ্রে ঘুরে-ঘুরে অবশেষে ঠিকই পেয়ে যাবে বন্দর। বাঁধা বৃত্তের পরিধি পেরোয় কেন্দ্রাপসারী ঘোড়া অসম্ভবের দড়ি ছেঁড়ে তবু সরল রেখায় ছোটে, এলোমেলো কিছু ডিগবাজি আর দুলকির নামও চাল; আপাত বেতাল ভাঁড়ের তামাশা অর্থের পায়ে লোটে। কালোয়াত,

অভিযাত্রীর খেরোখাতা Read More »

বাইশের লাল ঘোড়া

বাইশের লাল ঘোড়া -আবিদ আনোয়ার মানতের মতো রেখে যায় কারা যার যার প্রিয় ফুল,পাপড়ির সাথে মাধুরী মেশানো নানা বর্ণের তোড়া:শহীদ মিনার নিমেষেই দেখে ফাঁকা তার বেদীমূলএকুশের ফুল খেয়ে চলে যায় বাইশের লাল ঘোড়া! হঠাৎ কখনো জাবরের পরে উৎকট ক্ষেপে ওঠে:খুঁজে ফেরে তার মৌসুমী মেনু রক্ত-মাখানো জল,নগর দাপিয়ে পাগলের প্রায় উড়–ক্কু পায়ে ছোটেপিছে ফেলে আসে গণভবনের

বাইশের লাল ঘোড়া Read More »

উত্তরাধুনিক বৃষ্টিপাত

উত্তরাধুনিক বৃষ্টিপাত -আবিদ আনোয়ার পরাবাস্তব বৃষ্টিতে ভেজে বগলের বর্ষাতি– শুকনো আষাঢ়, মিছে গর্জায় আকাশের কালো হাতি; কখনো ধূসর নীলিমায় শু’য়ে গর্ভিনী কোনো মোষ হতাশার মতো প্রসব করছে সাদা-সাদা খরগোশ! এ-আষাঢ় যাবে সাদাকালো আর নীলের কোলাজ দেখে? বর্ষাসংখ্যা সাময়িকী জুড়ে মেঘের পদ্য লে’খে? ঈশানের দিকে চেয়ে দেখি যেই জমছে সম্ভাবনা ‘বৃষ্টি হবে না’ ঘোষণায় বলে ঢাকা

উত্তরাধুনিক বৃষ্টিপাত Read More »

ফল্গুধারা নীরবে বয়

ফল্গুধারা নীরবে বয় -আবিদ আনোয়ার স্রোতে তোমার জন্ম, তুমি স্রোতেই হবে লীন; ফল্গুধারা নীরবে বয় সাড়াশব্দহীন। হাট বসালে ক্রেতাও জোটে, খৈ ছিটালে পাখি; নির্মাতাই জানে কেবল পণ্যে কত ফাঁকি! কালের ডামাডোলের ফাঁকে চক্ষে দিয়ে ধুলো ভাবছো তুমি গানের সাথে বিকাবে শোরগোলও? প্রাত্যহিকে রঙ মাখিয়ে শাশ্বতকে জয় করাও যাবে–জানতে হবে রঙের পরিচয়। কোথায় তুমি জানলা খোলো

ফল্গুধারা নীরবে বয় Read More »

আমি কার খালু

আমি কার খালু -আবিদ আনোয়ার ধীরে ধীরে হাট ভাঙছে, অন্ধকার টেনে ধরছে দিগন্তের ফিকে লালসালু– ডেকেছি বিস্তর তবু কেউ এসে বলে নাই আমি কার খালু! উল্লোল বাজারি শব্দে ডুবে গেছে হার্দ্য এই ডাক, বিপণি বিতান থেকে মাছের মহাল, মায় অন্ধগলি ঘুরেছি বেবাক; কানফাটা শোরগোলেও কেউ কিছু ভোলে নাই কার কী ভূমিকা: লাভ বুঝে দর হাঁকে

আমি কার খালু Read More »

১৪০০ সাল

১৪০০ সাল -আবিদ আনোয়ার আজ ভোরে সূর্য নয় দিগন্ত রাঙালো নিজে রবীন্দ্র ঠাকুর: শ্মশ্রুময় দেবকান্তি, অমিতাভ চিবুকের নূর ছড়ালো রৌদ্রের মতো যেন এই অপ্রাকৃত আকাশের নীল লক্ষকোটি জাগর জোনাকি নিয়ে করে ঝিলমিল! প্রশ্নচিহ্ন হয়ে জ্বলে চেতনার গভীর ভেতরে– “কে তুমি পড়িছ বসি আমার কবিতাখানি কৌতূহল ভরে?” দিগন্তে তাকিয়ে দেখি ফ্যালফ্যাল চেয়ে আছে মহান কাঙাল– কেঁপে

১৪০০ সাল Read More »

নূহ নবীর কাছে একটি সওয়াল

নূহ নবীর কাছে একটি সওয়াল -আবিদ আনোয়ার আপনিও আল্লা’র নবী, মানব কল্যাণহেতু প্রেরিত পুরুষ– যতক্ষণ এই দেহে প্রাণ আছে, না-হারাই হুঁশ আপনার মর্যাদাহানি করতে পারি নই আমি তেমন মুরতাদ, একটি শুধু সওয়ালের জওয়াব জানতে জাগে বড়ো সাধ। এজতেহাদে সত্য মিলে বলেছেন স্বয়ং মা’বুদ– রুহের কন্দর থেকে অহরহ ওঠে তাই প্রশ্নের বুদবুদ। সেই কবে পৃথিবীতে এসেছিলো

নূহ নবীর কাছে একটি সওয়াল Read More »

জৈবনিকতা

জৈবনিকতা -আবিদ আনোয়ার অনেক দেখেছি পাঁকাল-বিলাসী কাদাজলে রাজহাঁস, মসৃণ পাখা রেশমখচিত ছোঁয় না পঙ্কিলতা! অথবা আমার বালকবেলার মোহময়ী মেথরানী রূপের ছটায় ভুলে গেছি তার গুয়ের রাজ্যে বাস। পট্টি যখন বাঙলা মদের উৎসবে গোলজার সে তখন ছিলো পট্টরানীর আসনে অধিষ্ঠিত― ঘাগড়ায়-লাগা শুদ্র অথবা ভদ্রপাড়ার মল; “লছমী নাকি রে!” কুশল শুধাতো তবু খোদ জমিদার। কাদায় পদ্ম, চাঁদে

জৈবনিকতা Read More »

বিচূর্ণিভূত স্বপ্নের ছাই

বিচূর্ণিভূত স্বপ্নের ছাই -আবিদ আনোয়ার কী করে বলবো ভুলে গেছি সব সঞ্চয়ে আর স্মৃতির কণাও নাই– এখনও তো এই ধূসর মগজে বিচূর্ণিভূত স্বপ্নের ছাই ঝড় তোলে প্রতিদিন। ভেবে খুব হাসি পায়: নাগিনীর গ্রাসে অর্ধবিলীন ব্যাঙ যেন আমি কেউ আর্দ্র করুণ অন্তিম ডাকে জীবনকে ভেংচাই। মরণের আগে এমনি ক’দিন বাঁকা হেসেছিলো অমলের বউ গভীর নিশীথে ডাক

বিচূর্ণিভূত স্বপ্নের ছাই Read More »