ন্যাতাপরা ছেলেমেয়েরা

ন্যাতাপরা ছেলেমেয়ে গলির এখানে-ওখানে এসে জড়ো হয়। আমার সঙ্গে তারা সোজাসুজি কথা বলতে পারে না, যদিও কথা তাদের বুক ঠেলে আসে। আমাকে দেখে তাদের ঠোঁট একটু খোলে, গোল হয়, ছড়িয়ে যায়। একটা নাম সেখানে পরিষ্কার আঁকা হয়। কোনো ঝড় ওঠে না, নিঃশ্বাসের বাতাস তাকে জড়িয়ে ধরে সমস্ত গলিটা পারাপার করে। বারান্দা থেকে এখন কেউ আর হাত নাড়ে না। তবু রাস্তার আওয়াজ একবার সামনে এসে একটু থেমে পড়ে। যেন আশার বীজ এখানকার ধূলোতে বোনা হয়েছে। ফটকখোলা বাড়িটা বন্ধুতে জারিয়ে আছে। যে-ভয়গুলো প্রথমে জ়েঁকে থাকতে, বুলা তাদের হেসে হেসে তাড়িয়ে দিয়েছিল। তার হাসির টানে মানুষের চোখমুখ কোনো পাঁচিলে আটকা থাকতে পারেনি। এক গাদা ছেলেমেয়ে আদুড়গায়ে ধূলো মেখে তাদের মিতালিকে কেবলই জিজ্ঞাসায় তুলে ধরে। তারা জানে না, এই ছোট উৎস থেকে বেরিয়ে ভালোবাসা পৃথিবীর চওড়া মোহনায় বিস্তৃত হয়েছে।

Leave a Reply