কবিতা

শুধু কবিতার জন্য

শুধু কবিতার জন্য -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় শুধু কবিতার জন্য এই জন্ম, শুধু কবিতারজন্য কিছু খেলা, শুধু কবিতার জন্য একা হিম সন্ধেবেলাভুবন পেরিয়ে আসা, শুধু কবিতার জন্যঅপলক মুখশ্রীর শান্তি একঝলক;শুধু কবিতার জন্য তুমি নারী, শুধুকবিতার জন্য এতো রক্তপাত, মেঘে গাঙ্গেয় প্রপাতশুধু কবিতার জন্য, আরো দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে লোভ হয়।মানুষের মতো ক্ষোভময় বেঁচে থাকা, শুধুকবিতার জন্য আমি অমরত্ব […]

শুধু কবিতার জন্য Read More »

সকল ছন্দের মধ্যে আমিই গায়ত্রী

সকল ছন্দের মধ্যে আমিই গায়ত্রী -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ছিলাম বাসনা-লঘু, ছন্দ এসে আমাকে সুসি’র হতে বলেপ্রিয় বয়স্যের মতো তার দন্তপঙ্‌ক্তিআমি তাকে দূর হয়ে যেতে বলি নতুন বন্ধুর খোঁজেআমি ছন্দহীন হতে হতে ক্রমশ ধর্মদ্রোহী আগোপনপাষন্ড হয়ে যাই।তবু সে দরজার কাছে মুখ চুন, আমি তাকে পালঙ্কের নিচ থেকেজুতো মুখে করে আনতে হুকুম করেছি!দ্বিধা নেই, সে এনেছে, সমালোচকের কানে

সকল ছন্দের মধ্যে আমিই গায়ত্রী Read More »

সাবধান

সাবধান -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমি সেই মানুষ, আমাকে চেয়ে দ্যাখোআমি ফিরে এসেছিআমার কপালে রক্ত;বাষ্প-জমা গলায় বাস-ওল্টানো ভাঙা রাস্তা দিয়েফিরে এলাম-আমি মাছহীন ভাতের থালার সামনে বসেছিআমি দাঁড়িয়েছি চালের দোকানের লাইনেআমার চুলে ভেজাল তেলের গন্ধআমার নিশ্বাস-। রাস্তায় একটা বাচ্চা ছেলে বমি করলোআমি ওর মৃত্যুর জন্য দায়ী-পিছনের দরজায় বস্তাভর্তি টাকা ঘুষ নিচ্ছিল যে লোকটাআমি তার হত্যার জন্য দায়ী-আমি পুলিশের বোকামি

সাবধান Read More »

স্বপ্ন, একুশে ভাদ্র

স্বপ্ন, একুশে ভাদ্র -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কোন্‌ দিকে? কোন্‌ দিকে? আমি চিৎকার করলামঅমনি ভিড়ের ভিতরেএকটা মোহর এসে ছিট্‌কে পড়লো। তৎক্ষণাৎ নৈঋত বাদ দিয়েসাতদিকে সাতটা রাস্তা খুলে গেল জ্যোৎস্নায়বড় চিত্তহারী সেই পথগুলি এবং জ্যোৎস্নায়ভিড়ের প্রতিটি টুকরো শত শত হুইস্‌ল বাজিলে ছুটে গেলব্যক্তিগত পথে পথে। কোন্‌ দিকে? কোন্‌ দিকে?আমি তীব্র ধাবমানকয়েকটি কলার চেপে হেঁকে উঠি, কী-করে জানলেন এইটা

স্বপ্ন, একুশে ভাদ্র Read More »

কণ্টকের কথা

কণ্টকের কথা -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একদা পুলকে প্রভাত-আলোকে      গাহিছে পাখি,কহে কণ্টক বাঁকা কটাক্ষে      কুসুমে ডাকি–তুমি তো কোমল বিলাসী কমল,      দুলায় বায়ু,দিনের কিরণ ফুরাতে ফুরাতে      ফুরায় আয়ু ;এ পাশে মধুপ মধুমদে ভোর,ও পাশে পবন পরিমল-চোর,বনের দুলাল, হাসি পায় তোর      আদর দেখে।আহা মরি মরি  কী রঙিন বেশ,সোহাগহাসির নাহি

কণ্টকের কথা Read More »

নিরুদ্দেশ যাত্রা

নিরুদ্দেশ যাত্রা -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে        হে সুন্দরী?বলো  কোন্‌ পার ভিড়িবে তোমার        সোনার তরী।যখনি শুধাই, ওগো বিদেশিনী,তুমি হাস শুধু, মধুরহাসিনী–বুঝিতে না পারি, কী জানি কী আছে        তোমার মনে।নীরবে দেখাও অঙ্গুলি তুলিঅকূল সিন্ধু উঠিছে আকুলি,দূরে পশ্চিমে ডুবিছে তপন        গগনকোণে।কী আছে

নিরুদ্দেশ যাত্রা Read More »

উৎসর্গ

উৎসর্গ -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উইলি পিয়র্‌সন্‌ বন্ধুবরেষু           আপনারে তুমি সহজে ভুলিয়া থাক,      আমরা তোমারে ভুলিতে পারি না তাই।          সবার পিছনে নিজের গোপনে রাখ,      আমরা তোমারে প্রকাশ করিতে চাই।          ছোটোরে কখনো ছোট নাহি কর মনে,      আদর করিতে জান অনাদৃত

উৎসর্গ Read More »

ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা

ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওরে  নবীন, ওরে আমার কাঁচা,     ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,     আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।রক্ত আলোর মদে মাতাল ভোরেআজকে যে যা বলে বলুক তোরে,সকল তর্ক হেলায় তুচ্ছ ক’রে     পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা।     আয় দুরন্ত, আয় রে আমার কাঁচা। খাঁচাখানা দুলছে মৃদু হাওয়ায়;     আর তো

ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা Read More »

এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো

এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো।     বেদনায় যে বান ডেকেছে          রোদনে যায় ভেসে গো।রক্ত-মেঘে ঝিলিক মারে,বজ্র বাজে গহন-পারে,কোন্‌ পাগোল ওই বারে বারে          উঠছে অট্টহেসে গো।এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো। জীবন এবার মাতাল মরণ-বিহারে।     এইবেলা নে বরণ

এবার যে ওই এল সর্বনেশে গো Read More »

আমরা চলি সমুখপানে

আমরা চলি সমুখপানে – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমরা চলি সমুখপানে,     কে আমাদের বাঁধবে।রইল যারা পিছুর টানে     কাঁদবে তারা কাঁদবে।ছিঁড়ব বাধা রক্ত-পায়ে,চলব ছুটে রৌদ্রে ছায়ে,জড়িয়ে ওরা আপন গায়ে     কেবলি ফাঁদ ফাঁদবে।     কাঁদবে ওরা কাঁদবে। রুদ্র মোদের হাঁক দিয়েছে     বাজিয়ে আপন তূর্য।মাথার ‘পরে ডাক দিয়েছে     মধ্যদিনের সূর্য।মন ছড়াল আকাশ ব্যেপে,আলোর নেশায় গেছি খেপে,ওরা

আমরা চলি সমুখপানে Read More »