কবিতা

শরীর অশরীরী

শরীর অশরীরী -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কেউ শরীরবাদী বলে আমায় ভর্ৎসনা করলে, তখনই ইচ্ছে হয়অভিমানে অশরীরী হয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যাই।আবার কেউ ‘অশরীরী’ শব্দটি উচ্চারন করলে আমি কান্নার মতনভয় পেয়ে তীব্র কন্ঠে বলি, শরীর, তুমি কোথায়? লুকিও নাএসো, তোমাকে একটু ছুঁই!এই রকমই জীবন ও মানুষের হাঁটা চলার ভাষা-সুতরাং ‘ভাষা’ শব্দটি কারুর মুখে শুনলে মনে হয় পৃথিবীরযাবতীয় ক্ষত্রিয় গদ্যেরবিনাশ […]

শরীর অশরীরী Read More »

অনর্থক নয়

অনর্থক নয় -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেয়ারা পাঠিয়ে কারা টাকা তোলে ব্যঙ্ক থেকে?আমি তো নিজের সইটা এখনো চিনি নাবিষম টাকার অভাব!নেই। শুধু হৃৎপিন্ড হাওয়া টেনে নেয়েহাসি কুলকুচো করি। মাথায় মুকুট নেই বলেকেউ ধার দিতেও চায় না।কিছু টাকা জমা আছে ব্লাড ব্যাঙ্কে। সামান্য।কাঁটা ছাড়ানো মাছের মতনগদ্য লিখলে ক্যাশ আসে। পারি না। কবিতায় দশ টাকাতাই বা মন্দ কি, কত

অনর্থক নয় Read More »

কুলি-মজুর

কুলি-মজুর -কাজী নজরুল ইসলাম দেখিনু সেদিন রেলে,কুলি ব’লে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!চোখ ফেটে এল জল,এমনি ক’রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্‌?রাজপথে তব চলিছে মোটর,

কুলি-মজুর Read More »

প্রভাতী

প্রভাতী -কাজী নজরুল ইসলাম ভোর হোলোদোর খোলো      খুকুমণি ওঠ রে! ঐ ডাকেজুঁই-শাখে     ফুল-খুকী ছোট রে! রবি মামাদেয় হামা     গায়ে রাঙা জামা ঐ,দারোয়ানগায় গান     শোনো ঐ, ‘রামা হৈ!’ ত্যাজি’ নীড়ক’রে ভিড়     ওড়ে পাখী আকাশে,এন্তার গান তার      ভাসে ভোর বাতাসে! চুল বুলবুল বুল    শিস দেয় পুস্পে, এইবারএইবার     খুকুমনি উঠবে! খুলি’হালতুলি’ পাল 

প্রভাতী Read More »

ব্যথা-নিশীথ

ব্যথা-নিশীথ -কাজী নজরুল ইসলাম এই নীরব নিশীথ রাতেশুধু জল আসে আঁখিপাতে।    কেন কি কথা স্মরণে রাজে?   বুকে কার হতাদর বাজে?   কোন্‌ ক্রন্দন হিয়া-মাঝে   ওঠে গুমরি’ ব্যর্থতাতে        আর জল ভরে আঁখি-পাতে।।    মম বর্থ জীবন-বেদনা   এই নিশীথে লুকাতে নারি,   তাই গোপনে একাকী শয়নে   শুধু নয়নে উথলে বারি।   ছিল সেদিনো এমনি নিশা,   বুকে জেগেছিল শত

ব্যথা-নিশীথ Read More »

শায়ক-বেঁধা পাখী

শায়ক-বেঁধা পাখী -কাজী নজরুল ইসলাম রে নীড়-হারা, কচি বুকে শায়ক-বেঁধা পাখী!   কেমন ক’রে কোথায় তোরে আড়াল দিয়ে রাখি?   কোথায় রে তোর কোথায় ব্যথা বাজে?   চোখের জলে অন্ধ আঁখি কিছুই দেখি না যে?   ওরে মাণিক! এ অভিমান আমায় নাহি সাজে-তোর জুড়াই ব্যথা আমার ভাঙা বক্ষপুটে ঢাকি’। ওরে আমার কোমল-বুকে-কাঁটা-বেঁধা পাখী, কেমন ক’রে কোথায় তোরে আড়াল দিয়ে রাখি?  বক্ষে বিঁধে

শায়ক-বেঁধা পাখী Read More »

সন্ধ্যাতারা

সন্ধ্যাতারা -কাজী নজরুল ইসলাম ঘোম্‌টা-পরা কাদের ঘরের বৌ তুমি ভাই সন্ধ্যাতারা?তোমার চোখে দৃষ্টি জাগে হারানো কোন্‌ মুখের পারা।।  সাঁঝের প্রদীপ আঁচল ঝেঁপে বঁধুর পথে চাইতে বেঁকে চাউনিটি কার উঠছে কেঁপে  রোজ সাঁঝে ভাই এমনি ধারা।। কারা হারানো বধূ তুমি অস-পথে মৌন মুখেঘনাও সাঁঝে ঘরের মায়া গৃহহীনের শূন্য বুকে।  এই যে নিতুই আসা-যাওয়া, এমন কর”ণ মলিন চাওয়া, কার তরে হায় আকাশ-বধু  তুমিও কি

সন্ধ্যাতারা Read More »

অপমান এবং নীরাকে উত্তর

অপমান এবং নীরাকে উত্তর -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজনসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজনসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, নীরা, কেন হেসে উঠলে, কেনসহসা ঘুমের মধ্যে যেন বজ্রপাত, যেন সিঁড়িতে দাঁড়িয়েসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে, নীরা, হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজনসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে কেন সাক্ষী কেন বন্ধু কেন

অপমান এবং নীরাকে উত্তর Read More »

অসুখের ছড়া

অসুখের ছড়া -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় একলা ঘরে শুয়ে রইলে কারুর মুখ মনে পড়ে নামনে পড়ে না মনে পড়ে না মনে পড়ে না মনে পড়ে নাচিঠি লিখবো কোথায়, কোন মুন্ডহীন নারীর কাছে?প্রতিশ্রুতি মনে পড়ে না চোখের আলো মনে পড়ে নাব্লেকের মতো জানলা খুলে মুখ দেখবো ঈশ্বরের? বৃষ্টি ছিল রৌদ্র ছায়ায়, বাতাস ছিল বিখ্যাতকরমচার সবুজ ঝোপে পূর্বকালের গন্ধ ছিলকত

অসুখের ছড়া Read More »

আমার কয়েকটি নিজস্ব শব্দ

আমার কয়েকটি নিজস্ব শব্দ -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় পরিত্রাণ, তুমি শ্বেত, একটুও ধূসর নও, জোনাকির পিছনে বিদ্যুৎ,যেমন তোমার চিরকালজোনাকির চিরকাল; স্বর্গ থেকে পতনের পরতোমার অসুখ হলে ভয় পাই, বহু রাত্রি জাগরণ- প্রাচীন মাটিতেতুমি শেষ উত্তরাধিকার। একাদশী পার হলে-তোমার নিশ্চিত পথ্য হবে।আমার সঙ্গম নয় কুয়াশায় সমুদ্র ও নদী;ঐ শব্দ চতুষ্পদ, দ্বিধঅ, কিছুটা উপরে, সার্থকতা যদি উদাসীন;বিপুল তীর্থের পূণ্য-নয়?

আমার কয়েকটি নিজস্ব শব্দ Read More »