স্বপ্নের ধ্বনিরা
স্বপ্নের ধ্বনিরা -জীবনানন্দ দাশ স্বপ্নের ধ্বনিরা এসে বলে যায়: স্থবিরতা সব চেয়ে ভালো; নিস্তব্ধ শীতের রাতে দীপ জ্বেলে অথবা নিভায়ে দীপ বিছানায় শুয়েস্থবিরের চোখে যেন জমে ওঠে অন্য কোন বিকেলের আলো। সেই আলো চিরদিন হয়ে থাকে স্থির, […]
স্বপ্নের ধ্বনিরা -জীবনানন্দ দাশ স্বপ্নের ধ্বনিরা এসে বলে যায়: স্থবিরতা সব চেয়ে ভালো; নিস্তব্ধ শীতের রাতে দীপ জ্বেলে অথবা নিভায়ে দীপ বিছানায় শুয়েস্থবিরের চোখে যেন জমে ওঠে অন্য কোন বিকেলের আলো। সেই আলো চিরদিন হয়ে থাকে স্থির, […]
আমাকে তুমি -জীবনানন্দ দাশ আমাকেতুমি দেখিয়েছিলে একদিন :মস্ত বড় ময়দান — দেবদারু পামের নিবিড় মাথা — মাইলের পর মাইল;দুপুরবেলার জনবিরল গভীর বাতাসদূর শূন্যে চিলের পাটকিলে ডানার ভিতর অস্পষ্ট হয়ে হারিয়ে যায়;জোয়ারের মতো ফিরে আসে আবার;জানালায় জানালায় অনেক ক্ষণ ধরে কথা বলে:পৃথিবীকে মায়াবী নদীর পারের দেশ বলে মনে হয়।তারপরদূরেঅনেক দূরেখররৌদ্রে পা ছড়িয়ে বর্ষীয়সী রূপসীর মাতা ধান
অবেলার ডাক -কাজী নজরুল ইসলাম অনেক ক’রে বাসতে ভালো পারিনি মা তখন যারে,আজ অবেলায় তারেই মনে পড়ছে কেন বারে বারে।। আজ মনে হয় রোজ রাতে সে ঘুম পাড়াত নয়ন চুমে,চুমুর পরে চুম দিয়ে ফের হান্তে আঘাত ভোরের ঘুমে। ভাব্তুম তখন এ কোন্ বালাই! কর্ত এ প্রাণ পালাই পালাই।আজ
চাঁদনী-রাতে -কাজী নজরুল ইসলাম কোদালে মেঘের মউজ উঠেছে গগনের নীল গাঙে,হাবুডুবু খায় তারা-বুদবুদ, জোছনা সোনায় রাঙে!তৃতীয়া চাঁদের “সাম্পানে” চড়ি চলিছে আকাশ প্রিয়া,আকাশ-দরিয়া উতলা হ’ল গো পুতলায় বুকে নিয়া।তৃতীয়া চাঁদের বাকি “তের কলা” আবছা কালোতে আঁকানীলিম-প্রিয়ার নীলা “গুল রুখ” অব-গুণ্ঠনে ঢাকা।সপ্তর্ষির তারা-পালঙ্কে ঘুমায় আকাশ-রাণী,সেহেলি “লায়লী” দিয়ে গেছে চুপে কূহেলী-মশারী টানি!দিক-চক্রের ছায়া-ঘন ঐ সবুজ তরুর সারি,নীহার-নেটের কুয়াশা
রাখীবন্ধন -কাজী নজরুল ইসলাম সই পাতালো কি শরতে আজিকে স্নিগ্ধ আকাশ ধরণী?নীলিমা বাহিয়া সওগাত নিয়া নামিছে মেঘের তরণী!অলকার পানে বলাকা ছুটিছে, মেঘ-দূত- মন মোহিয়া!চঞ্চুতে রাঙ্গা কল মীর কুঁড়ি- মরতের ভেট বহিয়া!সখীর গাঁয়ের সেঁউতি- বোঁটার ফিরোজায় রেঙ্গে পেশোয়াজআসমানী আর মৃন্ময়ী সখী মিশিয়াছে মেঠো পথ- মাঝ!আকাশ এনেছে কুয়াশা- উড়ুনী, আসমানী- নীল- কাঁচুলি,তারকার টিপ, বিজলীর হার, দ্বিতীয় –
অভিযান -কাজী নজরুল ইসলাম নতুন পথের যাত্রা-পথিকচালাও অভিযান !উচ্চ কণ্ঠে উচ্চার আজ -“মানুষ মহীয়ান !” চারদিকে আজ ভীরুর মেলা ,খেলবি কে আর নতুন খেলা ?জোয়ার জলে ভাসিয়ে ভেলাবাইবি কি উজান ?পাতাল ফেড়ে চলবি মাতালস্বর্গে দিবি টান্ ।। সরল সাজের নাইরে সময়বেরিয়ে তোরা আয় ,আজ বিপদের পরশ নেবনাঙ্গা আদুল গায় । আসবে রণ-সজ্জা করে ,সেই আশায়ই রইলি সবে
বধূ-বরণ -কাজী নজরুল ইসলাম এতদিন ছিলে ভূবনের তুমিআজ ধরা দিলে ভবনে,নেমে এলে আজ ধরার ধূলাতেছিলে এতদিন স্বপনে!শুধু শোভাময়ী ছিলে এত দিনকবির মানসে কলিকা নলিন,আজ পরশিলে চিত্ত- পুলিনবিদায় গোধূলি- লগনে।ঊষার ললাট-সিন্দুর-টিপসিথিঁতে উড়াল পবনে।। প্রভাতে ঊষা কুমারী, সেজেছেসন্ধ্যায় বধূ ঊষসী,চন্দন- টোপা- তারা- কলঙ্কেভ’রেছে বে-দাগ- মু’শশী।মুখর মুখ আর বাচাল নয়নলাজ সুখে আজ যাচে গুন্ঠন,নোটন- কপোতি কন্ঠে এখনকূজন উঠিছে উছসি’।এতদিন
ফাল্গুনী -কাজী নজরুল ইসলাম সখি পাতিসনে শিলাতলে পদ্মপাতা, সখি দিসনে গোলাব-ছিটে খাস্ লো মাথা! যার অন্তরে ক্রন্দন করে হৃদি মন্থন তারে হরি-চন্দন কমলী মালা- সখি দিসনে লো দিসনে লো, বড় সে জ্বালা! বল কেমনে নিবাই সখি বুকের আগুন! এল খুন-মাখা তৃণ নিয়ে খু’নেরা ফাগুন! সে যেন হানে
দারিদ্র্য -কাজী নজরুল ইসলাম হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান্।তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রীষ্টের সম্মানকন্টক-মুকুট শোভা।-দিয়াছ, তাপস,অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,বীণা মোর শাপে তব হ’ল তরবার! দুঃসহ দাহনে তব হে দর্পী তাপস, অম্লান স্বর্ণেরে মোর করিলে বিরস,অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ!শীর্ণ করপুট ভরি’ সুন্দরের দানযতবার নিতে যাই-হে বুভুক্ষু তুমিঅগ্রে আসি’ কর পান! শূন্য মরুভূমিহেরি
বিদায়-স্মরণে -কাজী নজরুল ইসলাম পথের দেখা এ নহে গো বন্ধু এ নহে পথের আলাপন। এ নহে সহসা পথ-চলা শেষে শুধু হাতে হাতে পরশন।। নিমেষে নিমেষে নব পরিচয়ে হ’লে পরিচিত মোদের হৃদয়ে, আসনি বিজয়ী-এলে সখা হ’য়ে, হেসে হ’রে নিলে প্রাণ-মন।। রাজাসনে বসি’ হওনি ক’ রাজা, রাজা হ’লে বসি, হৃদয়ে, তাই আমাদের চেয়ে