কবিতা

পারো তো ধর্ষণ করো

পারো তো ধর্ষণ করো – তসলিমা নাসরিন আর ধর্ষিতা হয়ো না, আর নাআর যেন কোনও দুঃসংবাদ কোথাও না শুনি যে তোমাকে ধর্ষণ করেছেকোনও এক হারামজাদা বা কোনও হারামজাদার দল।আমি আর দেখতে চাই না একটি ধর্ষিতারও কাতর করুণ মুখ,আর দেখতে চাই না পুরুষের পত্রিকায় পুরুষ সাংবাদিকের লেখা সংবাদপড়তে পড়তে কোনও পুরুষ পাঠকের আরও একবার মনে মনে […]

পারো তো ধর্ষণ করো Read More »

কাজলা দিদি

কাজলা দিদি – যতীন্দ্রমোহন বাগচী বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই, মাগো আমার শোলক্-বলা কাজলা দিদি কই? পুকুর ধারে লেবুর তলে, থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই, মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই? সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো; দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো? খাবার

কাজলা দিদি Read More »

ইলশে গুঁড়ি

ইলশে গুঁড়ি – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ইলশে গুঁড়ি!          ইলশে গুঁড়ি                ইলিশ মাছের ডিম|         ইলশে গুঁড়ি          ইলশে গুঁড়ি                দিনের বেলায় হিম|             কেয়াফুলে ঘুণ লেগেছে,          পড়তে পরাগ মিলিয়ে গেছে,         মেঘের সীমায় রোদ হেসেছে               আলতা-পাটি শিম্|       ইলশে গুঁড়ি          হিমের কুঁড়ি,               রোদ্দুরে রিম্ ঝিম্|  হালকা হাওয়ায়          মেঘের ছাওয়ায়               ইলশে গুঁড়ির নাচ, –      ইলশে গুঁড়ির          নাচন্ দেখে              নাচছে ইলিশ

ইলশে গুঁড়ি Read More »

যৌবন-চাঞ্চল্য

যৌবন-চাঞ্চল্য – যতীন্দ্রমোহন বাগচী ভুটিয়া যুবতি চলে পথ;  আকাশ কালিমামাখা কুয়াশায় দিক ঢাকা।  চারিধারে কেবলই পর্বত;  যুবতী একেলা চলে পথ।  এদিক-ওদিক চায় গুনগুনি গান গায়,  কভু বা চমকি চায় ফিরে;  গতিতে ঝরে আনন্দ উথলে নৃত্যের ছন্দ  আঁকাবাঁকা গিরিপথ ঘিরে।  ভুটিয়া যুবতি চলে পথ।  টসটসে রসে ভরপুর–  আপেলের মত মুখ আপেলের মত বুক  পরিপূর্ণ প্রবল প্রচুর; 

যৌবন-চাঞ্চল্য Read More »

ছিন্নমুকুল

ছিন্নমুকুল – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত সবচেয়ে যে ছোট পিড়ি খানি সেখানি আর কেউ রাখেনা পেতে, ছোটথালায় হয় নাকো ভাতবাড়া জল ভরে না ছোট্ট গেলাসেতে। বাড়ির মধ্যে সবচেয়ে যে ছোট খাবার বেলা কেউ ডাকে না তাকে। সবচেয়ে যে শেষে এসেছিল, তারই খাওয়া ঘুচেছে সব আগে। সবচেয়ে যে অল্পে ছিল খুশি, খুশি ছিল ঘেষাঘেষির ঘরে, সেই গেছে হায়,

ছিন্নমুকুল Read More »

অপরাজিতা

অপরাজিতা – যতীন্দ্রমোহন বাগচী পরাজিতা তুই সকল ফুলের কাছে,তবু কেন তোর অপরাজিতা নাম?বর্ণ-সেও ত নয় নয়নাভিরাম |ক্ষুদ্র অতসী, তারো কাঞ্চন-ভাতি ;রূপগুণহীন বিড়ম্বনার খ্যাতি!কালো আঁখিপুটে শিশির-অশ্রু ঝরে—ফুল কহে—মোর কিছু নাই কিছু নাই,ফুলসজ্জায় লজ্জায় যাই নাক,বিবাহ-বাসরে থাকি আমি ম্রিয়মাণ |মোর ঠাঁই শুধু দেবের চরণতলে,পূজা-শুধু-পূজা জীবনের মোর ব্রত ;তিনিও কি মোরে ফিরাবেন আঁখিজলে—

অপরাজিতা Read More »

জবা

জবা – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমারে লইয়া সুখী হও তুমি ওগো দেবী শবাসনা, আর খুঁজিও না মানব-শোনিত, আর তুমি খুঁজিও না। আর মানুষের হৃত্ পিণ্ডটা নিওনা খড়গে ছিঁড়ে, হাহকার তুমি তুলো না গো আর সুখের নিভৃত নীড়ে। এই দেখ আমি উঠেছি ফুটিয়া উজলি পুষ্পসভা, ব্যথিত ধরার হৃত্ পিণ্ডটি আমি যে রক্তজবা। তোমার চরণে নিবেদিত আমি, আমি

জবা Read More »

ঝর্ণা

ঝর্ণা – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ঝর্ণা! ঝর্ণা! সুন্দরী ঝর্ণা!  তরলিত চন্দ্রিকা! চন্দন-বর্ণা!       অঞ্চল সিঞ্চিত গৈরিকে স্বর্ণে,       গিরি-মল্লিকা দোলে কুন্তলে কর্ণে,  তনু ভরি’ যৌবন, তাপসী অপর্ণা!              ঝর্ণা!  পাষাণের স্নেহধারা! তুষারের বিন্দু!  ডাকে তোরে চিত-লোল উতরোল সিন্ধু|       মেঘ হানে জুঁইফুলী বৃষ্টি ও-অঙ্গে,       চুমা-চুমকীর হারে চাঁদ ঘেরে রঙ্গে,  ধূলা-ভরা দ্যায় ধরা তোর লাগি ধর্ণা!              

ঝর্ণা Read More »

অন্ধ বধূ

অন্ধ বধূ -যতীন্দ্রমোহন বাগচী পায়ের তলায় নরম ঠেকল কী!আস্তে একটু চলনা ঠাকুর-ঝি —ওমা, এ যে ঝরা-বকুল ! নয়?তাইত বলি, বদোরের পাশে,রাত্তিরে কাল — মধুমদির বাসেআকাশ-পাতাল — কতই মনে হয় ।জ্যৈষ্ঠ আসতে কদিন দেরি ভাই —আমের গায়ে বরণ দেখা যায় ?—অনেক দেরি? কেমন করে’ হবে !কোকিল-ডাকা শুনেছি সেই কবে,দখিন হাওয়া —বন্ধ কবে ভাই ;দীঘির ঘাটে নতুন

অন্ধ বধূ Read More »

দূরের পাল্লা

দূরের পাল্লা – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিপখান তিন-দাঁড় –  তিনজন মাল্লা  চৌপর দিন-ভোর  দ্যায় দূর-পাল্লা!           পাড়ময় ঝোপঝাড়           জঙ্গল-জঞ্জাল,           জলময় শৈবাল           পান্নার টাঁকশাল |  কঞ্চির তীর-ঘর  ঐ-চর জাগছে,  বন-হাঁস ডিম তার  শ্যাওলায় ঢাকছে|           চুপ চুপ – ওই ডুব           দ্যায় পান্ কৌটি           দ্যায় ডুব টুপ টুপ           ঘোমটার বৌটি!  ঝকঝক কলসীর  বক্ বক্ শোন্ গো  ঘোমটার ফাঁক বয়  মন উন্মন

দূরের পাল্লা Read More »