কবিতা

ছাতা

ছাতা -আনিসুল হক এমন দিনেই কেবল তোমাকে ভাবা যায়। এমন ঘনঘোর সরিষায়। ইলিশে। বৃষ্টি পড়বে। আমি তোমাকে ভাবব। বৃষ্টি পড়ছে না। আমি তোমাকে ভাবছি না। বৃষ্টি পড়ো পড়ো, ভাবনা ভাবনা আসি আসি। বৃষ্টি ঝরো ঝরো, দুজনে থরো থরো। রোদ উঠল। আমি তোমাকে ভুলে থাকছি। রিকশায় হুড উঠল। আমি তোমাকে ভুলেই আছি। একদম ভাবছি না। নখ নয়, আনখ-নখরা […]

ছাতা Read More »

পড়শি

পড়শি -আনিসুল হক আমার একটা কদম বৃক্ষ আছে!আমি তাকে নীপ বলে ডাকি।আইনত গাছটা আমার নয়,আমি ঠিক তার পাশের বাসায় থাকি! কিন্তু তাকে ডেকে আমি বলি,ওগো নীপ তুমি কিন্তু আমার!তুমি আমার তুমি আমার শুধুই!তোমার ছায়ায় দিবারাত্র শুই। কদম আমার কথায় মাথা নাড়েন,চুলের বেণি বৃষ্টিশেষে ঝাড়েন।বলেন, যখন আকাশ থাকে মেঘলা,আমার ছায়া কোথায় তখন? একলাআমি তখন ছায়াবিহীন একাকিনী!জলের কাছে মেঘের

পড়শি Read More »

গরম

গরম -আনিসুল হক এত কেন গরম বর্ষাকালে? ঝড়ে উড়ে যায় যায় গোআমার মুখের বসনখানিআমার বুকের বসনখানিআমার রইল না লাজলজ্জা এত কেন গরম বর্ষাকালেআমার শরম ওড়ে মেঘের ফোলা পালেঘামে ভেজে আমার গৃহসজ্জাঘামে ভেজে আমার অলস শয্যা লোডশেডিং কেন বর্ষাকালে? এতই যদি গরম বর্ষাকালেআমি তবে ছাদের জলে ভিজিএতই যদি গরম বর্ষাকালেআমি তবে বৃষ্টিজলে ভিজি ভিজুক আমার যত গরমগুলোভিজুক আমার যত শরমগুলোমধ্যরাতে ছাদে

গরম Read More »

ম’রে যেতে সাধ হয়

ম’রে যেতে সাধ হয় – আনিসুল হক শাহানা, তুমি গোলাপী জামা প’রে জীবন্ত গোলাপের মতোক্যাম্পাসে এসো না, আমার খারাপ লাগে। সখী পরিবৃতা হয়ে মোগল-দুহিতার মতোকরিডোরে অমন ক’রে হেঁটো না, আমার খারাপ লাগে। শাহানা, তুমি চিবুক নাড়িয়েরাঙা মাড়িতেদুধ শাদা হাতেলালিম জিহ্বায়গিটারের তারের মতো বেজে উঠো না —দরদালান কেঁপে উঠে, ঢিল পড়ে বুকের পুকুরে,কাঁপে পানি থিরিথিরি, আমার খারাপ লাগে। শাহানা,

ম’রে যেতে সাধ হয় Read More »

তুই কি আমার দুঃখ হবি?

তুই কি আমার দুঃখ হবি? -আনিসুল হক তুই কি আমার দুঃখ হবি?এই আমি এক উড়নচণ্ডী আউলা বাউলরুখো চুলে পথের ধুলোচোখের নীচে কালো ছায়া।সেইখানে তুই রাত বিরেতে স্পর্শ দিবি।তুই কি আমার দুঃখ হবি? তুই কি আমার শুষ্ক চোখে অশ্রু হবি?মধ্যরাতে বেজে ওঠা টেলিফোনের ধ্বনি হবি?তুই কি আমার খাঁ খাঁ দুপুরনির্জনতা ভেঙে দিয়েডাকপিয়নের নিষ্ঠ হাতেক্রমাগত নড়তে থাকা দরজাময়

তুই কি আমার দুঃখ হবি? Read More »

প্রেমিকার মৃত্যুতে

প্রেমিকার মৃত্যুতে – হুমায়ুন আজাদ খুব ভালো চমৎকার লাগছে লিলিআন,মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে হবো না চৌচির।তরঙ্গে তরঙ্গে ভ্রষ্ট অন্ধ জলযানএখন চলবে জলে খুব ধীরস্থির।অন্য কেউ ঢেলে নিচ্ছে ঠোঁট থেকে লালমাংস খুঁড়ে তুলে নিচ্ছে হীরেসোনামণি;এই ভয়ে কাঁপবে না আকাশপাতাল,থামবে অরণ্যে অগ্নি আকাশে অশনি। আজ থেকে খুব ধীরে পুড়ে যাবে চাঁদ,খুব সুস্থ হয়ে উঠবে জীবনযাপন।অন্নে জলে ঘ্রাণে পাবো অবিকল স্বাদ,চিনবো

প্রেমিকার মৃত্যুতে Read More »

ফুলেরা জানতো যদি

ফুলেরা জানতো যদি – হুমায়ুন আজাদ ফুলেরা জানতো যদি আমার হৃদয়ক্ষতবিক্ষত কতোখানি,অঝোরে ঝরতো তাদের চোখের জলআমার কষ্ট আপন কষ্ট মানি । নাইটিংগেল আর শ্যামারা জানতো যদিআমার কষ্ট কতোখানি-কতোদুর,তাহলে তাদের গলায় উঠতো বেজেআরো ব হু বেশী আনন্দদায়ক সুর । সোনালী তারারা দেখতো কখনো যদিআমার কষ্টের অশ্রুজলের দাগ,তাহলে তাদের স্থান থেকে নেমে এসেজানাতো আমাকে সান্ত্বনা ও অনুরাগ । তবে তারা

ফুলেরা জানতো যদি Read More »

বাঙলা ভাষা

বাঙলা ভাষা – হুমায়ুন আজাদ শেকলে বাঁধা শ্যামল রূপসী, তুমি-আমি, দুর্বিনীত দাসদাসী-একই শেকলে বাঁধা প’ড়ে আছি শতাব্দীর পর শতাব্দী।আমাদের ঘিরে শাঁইশাঁই চাবুকের শব্দ, স্তরে স্তরে শেকলের ঝংকার।তুমি আর আমি সে-গোত্রের যারা চিরদিন উৎপীড়নের মধ্যে গান গায়-হাহাকার রূপান্তরিত হয় সঙ্গীতে-শোভায়। লকলকে চাবুকের আক্রোশ আর অজগরের মতো অন্ধ শেকলেরমুখোমুখি আমরা তুলে ধরি আমাদের উদ্ধত দর্পিত সৌন্দর্য:আদিম ঝরনার মতো

বাঙলা ভাষা Read More »

ব্যাধিকে রূপান্তরিত করছি মুক্তোয়

ব্যাধিকে রূপান্তরিত করছি মুক্তোয় – হুমায়ুন আজাদ একপাশে শূন্যতার খোলা, অন্যপাশে মৃত্যুর ঢাকনা,প’ড়ে আছে কালো জলে নিরর্থক ঝিনুক।অন্ধ ঝিনুকের মধ্যে অনিচ্ছায় ঢুকে গেছি রক্তমাংসময়আপাদমস্তক বন্দী ব্যাধিবীজ। তাৎপর্য নেই কোন দিকে-না জলে না দেয়ালে-তাৎপর্যহীন অভ্যন্তরে ক্রমশ উঠছি বেড়েশোণিতপ্লাবিত ব্যাধি। কখনো হল্লা ক’রে হাঙ্গরকুমীরসহঠেলে আসে হলদে পুঁজ, ছুটে আসে মরা রক্তের তুফান।আকষ্মিক অগ্নি ঢেলে ধেয়ে আসে কালো

ব্যাধিকে রূপান্তরিত করছি মুক্তোয় Read More »