কবিতা

শবসাধনা

শবসাধনা – শঙ্খ ঘোষ বুঝি তোমার চাউনি বুঝিথাকবে না আর গলিঘুঁজিথাকবে না আর ছাউনি আমার কোথাওও প্রমোটার ও প্রমোটারতোমার হাতে সব ক্ষমতারদিচ্ছি চাবি, ওঠাও আমায় ওঠাও | তুমিই চিরনমস্য, তাইতোমার পায়ে রত্ন জোটাইতোমার পায়েই বিলিয়ে দিই শরীর—যাঁর যা খুশি বলুন তিনিকরবে তুমি কল্লোলিনীভরসা কেবল কলসি এবং দড়ির | আমার বলে রইলো শুধুবুকের ভেতর মস্ত ধু ধুদিয়েছি সব […]

শবসাধনা Read More »

আজীবন একই চিঠি

আজীবন একই চিঠি -অসীম সাহা নখরে জ্বালিয়ে রাখি লক্ষ্যের দীপ্র ধনুক যেন এক শব্দের নিষাদ এই নির্মল নিসর্গে বসে কাঁদি, তবু সেই নির্মম শব্দাবলী ছিঁড়ে আনতে পারি না বলে সুতীক্ষ্ণ অনুযোগ হতে অব্যাহতি দিন; এই শোকের শহরে আমি যার কাছে চাই ফুল, কিছু মনোরম শোভা, যেসবের বিসতৃত বর্ণনা আমি আপনাকে লিখতে পারি, সে আমার হাতে

আজীবন একই চিঠি Read More »

শূন্যের ভিতরে ঢেঊ

শূন্যের ভিতরে ঢেঊ – শঙ্খ ঘোষ বলিনি কখনো?আমি তো ভেবেছি বলা হয়ে গেছে কবে।এভাবে নিথর এসে দাঁড়ানো তোমার সামনেসেই এক বলাকেননা নীরব এই শরীরের চেয়ে আরো বড়োকোনো ভাষা নেইকেননা শরীর তার দেহহীন উত্থানে জেগেযতদূর মুছে নিতে জানেদীর্ঘ চরাচরতার চেয়ে আর কোনো দীর্ঘতর যবনিকা নেই।কেননা পড়ন্ত ফুল, চিতার রুপালি ছাই, ধাবমান শেষ ট্রামসকলেই চেয়েছে আশ্রয়সেকথা বলিনি?

শূন্যের ভিতরে ঢেঊ Read More »

সবিনয় নিবেদন

সবিনয় নিবেদন – শঙ্খ ঘোষ আমি তো আমার শপথ রেখেছিঅক্ষরে অক্ষরেযারা প্রতিবাদী তাদের জীবনদিয়েছি নরক করে |দাপিয়ে বেড়াবে আমাদের দলঅন্যে কবে না কথাবজ্র কঠিন রাজ্যশাসনেসেটাই স্বাভাবিকতা |গুলির জন্য সমস্ত রাতসমস্ত দিন খোলাবজ্র কঠিন রাজ্যে এটাইশান্তি শৃঙ্খলা |যে মরে মরুক, অথবা জীবনকেটে যাক শোক করে—আমি আজ জয়ী, সবার জীবনদিয়েছি নরক করে |

সবিনয় নিবেদন Read More »

হাতেমতাই

হাতেমতাই – শঙ্খ ঘোষ হাতের কাছে ছিল হাতেমতাইচূড়োয় বসিয়েছি তাকেদুহাত জোড় করে বলেছি ‘প্রভুদিয়েছি খত দেখো নাকে।এবার যদি চাও গলাও দেবদেখি না বরাতে যা থাকে -আমার বাঁচামরা তোমারই হাতেস্মরণে রেখো বান্দাকে!’ ডুমুরপাতা আজও কোমরে ঝোলেলজ্জা বাকি আছে কিছুএটাই লজ্জার। এখনও মজ্জারভিতরে এত আগুপিছু!এবার সব খুলে চরণমূলেঝাঁপাব ডাঁই করা পাঁকেএবং মিলে যাব যেমন সহজেইচৈত্র মেশে বৈশাখে।

হাতেমতাই Read More »

কত ভালবাসি

কত ভালবাসি – কামিনী রায় জড়ায়ে মায়ের গলা শিশু কহে আসি,- “মা, তোমারে কত ভালোবাসি!” “কত ভালবাস ধন?” জননী শুধায়। “এ-ত।” বলি দুই হাত প্রসারি’ দেখায়। “তুমি মা আমারে ভালবাস কতখানি?” মা বলেন “মাপ তার আমি নাহি জানি।” “তবু কতখানি, বল।” “যতখানি ধরে তোমার মায়ের বুকে।” “নহে তার পরে?” “তার বাড়া ভালবাসা পারি না বাসিতে।”

কত ভালবাসি Read More »

এরা যদি জানে

এরা যদি জানে – কামিনী রায় এদেরও তো গড়েছেন নিজে ভগবান্ , নবরূপে দিয়েছেন চেতনা ও প্রাণ ; সুখে দুঃখে হাঁসে কাঁদে স্নেহে প্রেমে গৃহ বাঁধে বিধে শল্যসম হৃদে ঘৃণা অপমান, জীবন্ত মানুষ এরা মায়ের সন্তান।। এরা যদি আপনারে শেখে সম্মানিতে, এরা দেশ-ভক্ত রূপে জন্মভূমি-হিতে মরণে মানিবে ধর্ম বাক্য নহে — দিবে কর্ম ; আলস্য

এরা যদি জানে Read More »

পাছে লোকে কিছু বলে

পাছে লোকে কিছু বলে -কামিনী রায় করিতে পারি না কাজ সদা ভয় সদা লাজ সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,- পাছে লোকে কিছু বলে। আড়ালে আড়ালে থাকি নীরবে আপনা ঢাকি, সম্মুখে চরণ নাহি চলে পাছে লোকে কিছু বলে। হৃদয়ে বুদবুদ মত উঠে চিন্তা শুভ্র কত, মিশে যায় হৃদয়ের তলে, পাছে লোকে কিছু বলে। কাঁদে প্রাণ যবে আঁখি

পাছে লোকে কিছু বলে Read More »

স্মৃতিচিহ্ন

স্মৃতিচিহ্ন – কামিনী রায় ওরা ভেবেছিল মনে আপনার নাম মনোহর হর্ম্মরূপে বিশাল অক্ষরে ইষ্টক প্রস্তরে রচি চিরদিন তরে রেখে যাবে ! মূঢ় ওরা, ব্যর্থ মনস্কাম। প্রস্তর খসিয়াছে ভূমে প্রস্তরের পরে, চারিদিকে ভগ্নস্তূপ, তাহাদের তলে লুপ্ত স্মৃতি ; শুষ্ক তৃণ কাল-নদী-জলে ভেসে যায় নামগুলি, কেবা রক্ষা করে! মানব হৃদয় ভুমি করি অধিকার, করেছে প্রতিষ্ঠা যারা দৃঢ়

স্মৃতিচিহ্ন Read More »

চাহিবে না ফিরে?

চাহিবে না ফিরে? -কামিনী রায় পথে দেখে ঘৃণাভরে          কত কেহ গেল সরে উপহাস করি’ কেহ যায় পায়ে ঠেলে ; কেহ বা নিকটে আসি,          বরষি সান্ত্বনারাশি ব্যথিতেরে ব্যথা দিয়ে যায় শেষে ফেলে । পতিত মানব তরে       নাহি কি গো এ সংসারে একটি ব্যথিত প্রাণ, দুটি অশ্রুধার ? পথে পড়ে, অসহায়              পদতলে দলে যায় দু’খানি স্নেহের কর

চাহিবে না ফিরে? Read More »