কবিতা

মানুষ কে?

মানুষ কে? -ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত নিয়ত মানসধামে একরূপ ভাব। জগতের সুখ-দুখে সুখ দুখ লাভ।। পরপীড়া পরিহার, পূর্ণ পরিতোষ। সদানন্দে পরিপূর্ণ স্বভাবের কোষ।। নাহি চায় আপনার পরিবার সুখ। রাজ্যের কুশলকার্যে সদা হাস্যমুখ।। কেবল পরের হিতে প্রেম লাভ যার। মানুষ তারেই বলি মানুষ কে আর? নাহি চায় রাজ্যপদ নাহি চায় ধন। স্বর্গের সমান দেখে বন উপবন।। পৃথিবীর সমুদয় […]

মানুষ কে? Read More »

কৌলীন্য

কৌলীন্য -ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত মিছা কেন কুল নিয়া কর আঁটাআঁটি। এ যে কুল কুল নয় সার মাত্র আঁটি।। কুলের গৌরব কর কোন্ অভিমানে। মূলের হইলে দোষ কেবা তারে মানে।। ঘটকের মুখে সুধু কুলীনের চোপা। রস নাই যশ কিসে কুল হল টোপা।। আদর হইত তবে ভাঙ্গিলে অরুচি। পোকাধরা সোঁকা ভার দেখে যায় রুচি।। অতএব বৃথা এই কুলের

কৌলীন্য Read More »

মাতৃভাষা

মাতৃভাষা -ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত মায়ের কোলেতে শুয়ে ঊরুতে মস্তক থুয়ে খল খল সহাস্য বদন। অধরে অমৃত ক্ষরে আধ আধ মৃদু স্বরে আধ আধ বচনরচন।। কহিতে অন্তরে আশা মুখে নাহি কটু ভাষা ব্যাকুল হয়েছে কত তায়। মা-ম্মা-মা-মা-বা-ব্বা-বা-বা আবো আবো আবা আবা সমুদয় দেববাণী প্রায়।। ক্রমেতে ফুটিল মুখ উঠিল মনের সুখ একে একে দেখিলে সকল। মেসো, পিসে, খুড়ো,

মাতৃভাষা Read More »

তপসে মাছ

তপসে মাছ -ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কষিত-কনককান্তি কমনীয় কায়। গালভরা গোঁফ-দাড়ি তপস্বীর প্রায়॥ মানুষের দৃশ্য নও বাস কর নীরে। মোহন মণির প্রভা ননীর শরীরে॥ পাখি নও কিন্তু ধর মনোহর পাখা। সমধুর মিষ্ট রস সব-অঙ্গে মাখা॥ একবার রসনায় যে পেয়েছে তার। আর কিছু মুখে নাহি ভাল লাগে তার॥ দৃশ্য মাত্র সর্বগাত্র প্রফুল্লিত হয়। সৌরভে আমোদ করে ত্রিভুবনময়॥ প্রাণে

তপসে মাছ Read More »

ভারতের ভাগ্য-বিপ্লব

ভারতের ভাগ্য-বিপ্লব – ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত পূর্বকার দেশাচার কিছুমাত্র নাহি আর অনাচারে অবিরত রত। কোথা পূর্ব রীতি নীতি, অধর্মের প্রতি প্রীতি, শ্রুতি হয় শ্রুতিপথহত।। দেশের দারুণ দুখ দেখিয়া বিদরে বুক, চিন্তায় চঞ্চল হয় মন। লিখিতে লেখনী কাঁদে ম্লানমুখ মসীছাঁদে শোক-অশ্রু করে বরিষণ।। কি ছিল কি হ’ল, আহা, আর কি হইবে তাহা, ভারতের ভবভরা যশ। ঘুচিবে সকল

ভারতের ভাগ্য-বিপ্লব Read More »

ঘর

ঘর -রুদ্র গোস্বামী মেয়েটা পাখি হতে চাইল আমি বুকের বাঁদিকে আকাশ পেতে দিলাম। দু-চার দিন ইচ্ছে মতো ওড়াওড়ি করে বলল, তার একটা গাছ চাই। মাটিতে পা পুঁতে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম। এ ডাল সে ডাল ঘুরে ঘুরে , সে আমাকে শোনালো অরণ্য বিষাদ। তারপর টানতে টানতে একটা পাহাড়ি ঝর্ণার কাছে নিয়ে এসে বলল, তারও এমন একটা

ঘর Read More »

একটি মেয়ের জন্য

একটি মেয়ের জন্য -রুদ্র গোস্বামী একা ফুটপাথ আলো ককটেল ভিজে নাগরিক রাত পদ্য। তুই হেঁটে যাস কাঁচ কুয়াশায় জল ভ্রূণ ভাঙা চাঁদ সদ্য। আমি প্রশ্ন তুই বিস্ময় চোখ চশমার নীচে বন্ধ। ঠোঁট নির্বাক চাওয়া বন্য আমি ভুলে যাই দ্বিধা দ্বন্দ্ব। জাগা রাত্রি ঘুম পস্তায় মোড়া রূপকথা পিচ রাস্তা পোষা স্বপ্ন ছিঁড়ে ছারখার প্রিয় রিংটোন লাগে

একটি মেয়ের জন্য Read More »

অসুখ

অসুখ -রুদ্র গোস্বামী আজকাল কি যে উল্টোপাল্টা বায়না শিখেছে ওযখন তখন এসে বলবে, ওর একটা আকাশ চাই।আর আমিও বোকার মতো সব কাজ ফেলেওর চোখের মাপের আকাশ খুঁজতে থাকি!শুধু কী তাই! তাতেও আবার ওর আপত্তি।এটাতে বলে মেঘ ভরতি তো ওটাতে একঘেয়ে আলো।গোধূলি আকাশ দেখলেই ও আবার লজ্জায় মরে যায়।আমার হয়েছে জ্বালা, মেঘ থাকবে না রোদ থাকবে

অসুখ Read More »

তিনি

তিনি – হুমায়ূন আহমেদ এক জরাগ্রস্থ বৃদ্ধ ছিলেন নিজ মনেআপন ভুবনে।জরার কারণে তিনি পুরোপুরি বৃক্ষ এক।বাতাসে বৃক্ষের পাতা কাঁপেতাঁর কাঁপে হাতের আঙ্গুল।বৃদ্ধের সহযাত্রী জবুথবু-পা নেই,শুধু পায়ের স্মৃতি পড়ে আছে।সেই স্মৃতি ঢাকা থাকে খয়েরি চাদরে।জরাগ্রস্থ বৃদ্ধ ভাবে চাদরের রঙটা নীল হলে ভাল ছিল।স্মৃতির রং সব সময় নীল।

তিনি Read More »

কাচপোকা

কাচপোকা – হুমায়ূন আহমেদ একটা ঝকঝকে রঙিন কাচপোকাহাঁটতে হাঁটতে এক ঝলক রোদের মধ্যে পড়ে গেল।ঝিকমিকিয়ে উঠল তার নকশাকাটা লাল নীল সবুজ শরীর।বিরক্ত হয়ে বলল,রোদ কেন?আমি চাই অন্ধকার ।চির অন্ধকারআমার ষোলটা পায়ে একটা ভারি শরীর বয়ে নিয়ে যাচ্ছি-অন্ধকার দেখব বলে।আমি চাই অন্ধকার ।চির অন্ধকারএকটা সময়ে এসে রোদ নিভে গেলবাদুড়ে ডানায় ভর করে নামল আঁধার।কি গাঢ়,পিচ্ছিল থকথকে

কাচপোকা Read More »