কবিতা

আদর্শ ছেলে

আদর্শ ছেলে -কুসুমকুমারী দাশ আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে ? মুখে হাসি, বুকে বল তেজে ভরা মন “মানুষ হইতে হবে” — এই তার পণ, বিপদ আসিলে কাছে হও আগুয়ান, নাই কি শরীরে তব রক্ত মাংস প্রাণ ? হাত, পা সবারই আছে মিছে কেন ভয়, চেতনা রয়েছে যার […]

আদর্শ ছেলে Read More »

প্রিয়া

প্রিয়া -বন্দে আলী মিয়া তোমারে পাই জ্যোত্স্না রাতের   অলস ঘুমের মাঝে   আমার বাঁশী তোমার হাতে   গভীর সুরে বাজে।   নিখিল ব্যাপি চাহিয়া থাকে   কাজল তব আঁখি   নিজেরে খুঁজি হারাইয়া দিশা   মনেরে হানি ফাঁকি;   ঊষসী তব সিঁদুর পরে   বলাকা সারি মালিকা গড়ে   তোমারে যাই ধরিতে চাই—   অমনি পাই না যে।   তোমারে পাই শরৎ প্রাতে   শিশির-ছেঁচা ফুলে   নৃত্য

প্রিয়া Read More »

আমাদের গ্রাম

আমাদের গ্রাম -বন্দে আলী মিয়া আমাদের ছোট গাঁয়ে ছোট ছোট ঘর, থাকি সেথা সবে মিলে নাহি কেহ পর৷ পাড়ার সকল ছেলে মোরা ভাই ভাই, এক সাথে খেলি আর পাঠশালে যাই৷ আমাদের ছোট গ্রাম মায়ের সমান, আলো দিয়ে, বায়ু দিয়ে বাঁচাইয়াছে প্রাণ৷ মাঠ ভরা ধান তার জল ভরা দিঘি, চাঁদের কিরণ লেগে করে ঝিকিমিকি৷ আম গাছ,

আমাদের গ্রাম Read More »

ময়নামতির চর

ময়নামতির চর -বন্দে আলী মিয়া এ-পারের এই বুনো ঝাউ আর ও পারের বুড়ো বট মাঝখানে তার আগাছায় ভরা শুকনো গাঙের তট ; এরি উঁচু পারে নিত্য বিহানে লাঙল দিয়েছে চাষী, কুমীরেরা সেথা পোহাইছে রোদ শুয়ে শুয়ে পাশাপাশি | কূলে কূলে চলে খরমূলা মাছ, দাঁড়িকানা পালে পালে ছোঁ দিয়ে তার একটারে ধরি’ গাঙ চিল বসে ডালে

ময়নামতির চর Read More »

পাখি

পাখি -বন্দে আলী মিয়া খাঁচার দুয়ার আলগা পাইয়া উড়ে গেছে পাখি বনে, ছোট কালো পাখি উড়ে গেছে দূর নীল নভ অঙ্গনে। শূন্য খাঁচাটি অনাদরে হোথা পড়ে আছে এক ধারে, খোকা বসি পাশে অশ্রুসজল চোক মোছে বারে বারে। একদা খোকন দূর দেশে গিয়ে এনেছিল এক পাখি, সারাদিন তারে করিত যতন সযতনে বুকে রাকি। ছোট কালো পাখি

পাখি Read More »

এরূপ বিরহ ভালো

এরূপ বিরহ ভালো -বিনয় মজুমদার এরূপ বিরহ ভালো ; কবিতার প্রথম পাঠের পরবর্তীকাল যদি নিদ্রিতের মতো থাকা যায়, স্বপ্নাচ্ছন্ন, কাল্পনিক ; দীর্ঘকাল পরে পুনরায় পাঠের সময় যদি শাশ্বত ফুলের মতো স্মিত, রূপ, ঘ্রাণ, ঝ’রে পড়ে তাহলে সার্থক সব ব্যথা, সকল বিরহ, স্বপ্ন ; মদিরার বুদ্বুদের মতো মৃদু শব্দে সমাচ্ছন্ন, কবিতা, তোমার অপ্রণয়। হাসির মতন তুমি

এরূপ বিরহ ভালো Read More »

২৯ জুন ১৯৬২

২৯ জুন ১৯৬২ -বিনয় মজুমদার কবিতা বুঝিনি আমি ; অন্ধকারে একটি জোনাকি যত্সামান্য আলো দেয়, নিরুত্তাপ, কোমল আলোক | এই অন্ধকারে এই দৃষ্টিগম্য আকাশের পারে অধিক নীলাভ সেই প্রকৃত আকাশ প’ড়ে আছে— এই বোধ সুগভীরে কখন আকৃষ্ট ক’রে নিয়ে যুগ যুগ আমাদের অগ্রসর হয়ে যেতে বলে, তারকা, জোনাকি—সব ; লম্বিত গভীরহয়ে গেলে না-দেখা গহ্বর যেন

২৯ জুন ১৯৬২ Read More »

২৭ জুন ১৯৬২

২৭ জুন ১৯৬২ -বিনয় মজুমদার করবী তরুতে সেই আকাঙ্খিত গোলাপ ফোটে নি | এই শোকে ক্ষিপ্ত আমি ; নাকি ভ্রান্তি হয়েছে কোথাও? অবশ্য অপর কেউ, মনে হয়, মুগ্ধ হয়েছিল, সন্ধানপর্বেও দীর্ঘ, নির্নিমেষ জ্যোত্স্না দিয়ে গেছে | আমার নিদ্রার মাঝে, স্তন্যপান করার মতন ব্যবহার ক’রে বলেশিহরিত হৃদয়ে জেগেছি | হায় রে বাসি না ভালো, তবু এও

২৭ জুন ১৯৬২ Read More »

২৬ অগাষ্ট ১৯৬০

২৬ অগাষ্ট ১৯৬০ -বিনয় মজুমদার মুকুরে প্রতিফলিত সূর্যালোক স্বল্পকাল হাসে | শিক্ষায়তনের কাছে হে নিশ্চল, স্নিগ্ধ দেবদারু জিহ্বার উপরে দ্রব লবণের মত কণা-কণা কী ছড়ায়, কে ছড়ায় ; শোনো, কী অস্ফুট স্বর, শোনো ‘কোথায়, কোথায় তুমি, কোথায় তোমার ডানা, শ্বেত পক্ষীমাতা, এই যে এখানে জন্ম, একি সেই জনশ্রুত নীড় না মৃত্তিকা? নীড় না মৃত্তিকা পূর্ণ

২৬ অগাষ্ট ১৯৬০ Read More »

৮ মার্চ ১৯৬০

৮ মার্চ ১৯৬০ -বিনয় মজুমদার একটি উজ্জ্বল মাছ একবার উড়ে দৃশ্যত সুনীল কিন্তু প্রকৃত পস্তাবে স্বচ্ছ জলে পুনরায় ডুবে গেলো — এই স্মিত দৃশ্য দেখে নিয়ে বেগনার গাঢ় রসে আপক্ক রক্তিম হ’লো ফল | বিপন্ন মরাল ওড়ে, অবিরাম পলায়ন করে, যেহেতু সকলে জানে তার শাদা পালকের নিচে রয়েছে উদগ্র উষ্ণ মাংস আর মেদ ; স্বল্পায়ু

৮ মার্চ ১৯৬০ Read More »