কবিতা

এই শীতে

এই শীতে -বুদ্ধদেব বসু আমি যদি ম’রে যেতে পারতুম এই শীতে, গাছ যেমন ম’রে যায়, সাপ যেমন ম’রে থাকে সমস্ত দীর্ঘ শীত ভ’রে। শীতের শেষে গাছ নতুন হ’য়ে ওঠে, শিকড় থেকে উর্ধ্বে বেয়ে ওঠে তরুণ প্রাণরস, ফুটে ওঠে চিক্কণ সবুজ পাতায়-পাতায় আর অজস্র উদ্ধত ফুলে। আর সাপ ঝরিয়ে দেয় তার খোলশ, তার নতুন চামড়া শঙ্খের […]

এই শীতে Read More »

বাংলাই আমাদের

বাংলাই আমাদের -বিষ্ণু দে আমরা বাংলার লোক, বাংলাই আমাদের, এদের ওদের সবার জীবন । আমাদের রক্তে ছন্দ এই নদি মাঠ ঘাট এই আমজাম বন, এই স্বচ্ছ রৌদ্রজলে অন্তরঙ্গ ঘরোয়া ভাষার হাস্যস্নাত অশ্রুদীপ্ত পেশল বিস্তার। চোখে কানে ঘ্রাণে প্রাণে দেহমনে কথায় স্নায়ুতে গঙ্গার পদ্মার হাসি একাকার, সমগ্র সত্তার অজেয় আয়ুতে নিত্য মৃত্যুত্তীর্ণ দুঃখে হর্ষে ছন্দে বর্ণে

বাংলাই আমাদের Read More »

সুজলা সুফলা

সুজলা সুফলা -বিষ্ণু দে সুজলা সুফলা সেই মলয়শীতলা ধরণীভরণী বন্দনীয় মাতৃভূমি ঋষি (ও হাকিম) বঙ্কিমচন্দ্রের সেই গণ-স্তোত্রগান এখনও হয়তো আনন্দের শীর্ষ-চূড়ে কোনো সভায় স্বয়ম্ রবিঠাকুরের সুরে সর্বাঙ্গ শিহরে অচৈতন্য শব্ দব্রহ্মে ধনী সমকণ্ঠে ওঠে সহস্রের গান, পাশের দূরের দেহমনে সমভাব, মৈত্রী — রাখীবন্ধনে শপথে | সে-গান প্রাণের রন্ধ্রে, মন জাগে ধ্রুব ছন্দে, গানে ভাবের সমুদ্র

সুজলা সুফলা Read More »

মনে হয় প্রত্যেকে লেনিন

মনে হয় প্রত্যেকে লেনিন -বিষ্ণু দে তোমাদেরও মনে হয়, মনে হয় তোমারও প্রত্যেকে লেনিন ? লাজুক সুকান্ত ওই কথাটাই বলেছিল কৈশোর সংরাগে বহুদিন আগে – সহজ কিশোর বিনম্র কবি বাংলায় তার কথা শতবর্ষে জাগে | কারণ লেনিন নন দেবতা বা পুরাণ-নায়ক, তিনি একালের বীর, স্থির ধীর, ভাবুক, আত্মস্থ, নেতা, মানবিক ; নিজেকে জাহির কখনোই করেননি

মনে হয় প্রত্যেকে লেনিন Read More »

তুমিই মালিনী

তুমিই মালিনী -বিষ্ণু দে তুমিই মালিনী, তুমিই তো ফুল জানি । ফুল দিয়ে যাও হৃদয়ের দ্বারে, মালিনী, বাতাসে গন্ধ, উৎস কি ফুলদানি, নাকি সে তোমার হৃদয়সুরভি হাওয়া ? দেহের অতীতে স্মৃতির ধূপ তো জ্বালি নি কালের বাগানে থামে নি কো আসা যাওয়া ত্রিকাল বেঁধেছ গুচ্ছে তোমার চুলে, একটি প্রহর ফুলহার দাও খুলে,কালের মালিনী ! তোমাকেই

তুমিই মালিনী Read More »

জল দাও

জল দাও -বিষ্ণু দে তোমার স্রোতের বুঝি শেষ নেই, জোয়ার ভাঁটায় এ-দেশে ও-দেশে নিত্য ঊর্মিল কল্লোলে পাড় গড়ে পাড় ভেঙে মিছিলে জাঠায় মরিয়া বন্যায় যুদ্ধে কখনো-বা ফল্গু বা পল্বলে কখনো নিভৃত মৌন বাগানের আত্মস্থ প্রসাদে বিলাও বেগের আভা আমি দূরে কখনো-বা কাছে পালে-পালে কখনো-বা হালে তোমার স্রোতের সহযাত্রী চলি, ভোলো তুমি পাছে তাই চলি সর্বদাই

জল দাও Read More »

উর্বশী

উর্বশী -সমর সেন তুমি কি আসবে আমাদের মধ‍্যবিত্ত রক্তে দিগন্তে দুরন্ত মেঘের মতো! কিম্বা আমাদের ম্লান জীবনে তুমি কি আসবে, হে ক্লান্ত উর্বশী, চিত্তরঞ্জন সেবাসদনে যেমন বিষণ্ণমুখে উর্বর মেয়েরা আসে : কত অতৃপ্ত রাত্রির ক্ষুধিত ক্লান্তি, কত দীর্ঘশ্বাস, কত সবুজ সকাল তিক্ত রত্রির মতো, আরো কত দিন!

উর্বশী Read More »

মুক্তি

মুক্তি -সমর সেন হিংস্র পশুর মতো অন্ধকার এল- তখন পশ্চিমের জ্বলন্ত আকাশ রক্তকরবীর মতো লাল: সে অন্ধকার মাটিতে আনল কেতকীর গন্ধ, রাত্রের অলস স্বপ্ন এঁকে দিল কারো চোখে, সে অন্ধকার জ্বেলে দিল কামনার কম্পিত শিখা কুমারীর কমনীয় দেহে। কেতকীর গন্ধে দুরন্ত, এই অন্ধকার আমাকে কি ক’রে ছোঁবে ? পাহাড়ের ধূসর স্তব্ধতায় শান্ত আমি, আমার অন্ধকারে

মুক্তি Read More »

মেঘদূত

মেঘদূত -সমর সেন পাশের ঘরে একটি মেয়ে ছেলে ভুলানোর ছড়া গাইছে, সে ক্লান্ত সুর ঝরে যাওয়া পাতার মতো হাওয়া ভাসছে, আর মাঝে মাঝে আগুন জ্বলছে অন্ধকার আকাশের বনে। বৃষ্টির আগে ঝড়, বৃষ্টির পরে বন‍্যা। বর্ষাকালে, অনেক দেশে যখন অজস্রজলে ঘরবাড়ি ভাঙবে, ভাসবে মূক পশু আর মুখর মানুষ, শহরের রাস্তায় যখন সদলবলে গাইবে দুর্ভিক্ষের স্বেচ্ছাসেবক, তোমার

মেঘদূত Read More »

একটি বেকার প্রেমিক

একটি বেকার প্রেমিক -সমর সেন চোরাবাজারে দিনের পর দিন ঘুরি সকালে কলতলায় ক্লান্ত গণিকারা কোলাহল করে, খিদিরপুর ডকে রাত্রে জাহাজের শব্দ শুনি; মাঝে মাঝে ক্লান্তভাবে কি যেন ভাবি- হে প্রেমের দেবতা, ঘুম যে আসে না, সিগারেট টানি; আর শহরের রাস্তায় কখনো বা প্রাণপণে দেখি ফিরিঙ্গি মেয়ের উদ্ধত নরম বুক। আর মদির মধ‍্যরাত্রে মাঝে মাঝে বলি:

একটি বেকার প্রেমিক Read More »