সংসার
সংসার – হুমায়ূন আহমেদ শোন মিলি।দুঃখ তার বিষমাখা তীরে তোকেবিঁধে বারংবার।তবুও নিশ্চিত জানি,একদিন হবে তোরসোনার সংসার ।।উঠোনে পড়বে এসে একফালি রোদতার পাশে শিশু গুটিকয়তাহাদের ধুলোমাখা হাতে – ধরা দেবেপৃথিবীর সকল বিস্ময়।
সংসার – হুমায়ূন আহমেদ শোন মিলি।দুঃখ তার বিষমাখা তীরে তোকেবিঁধে বারংবার।তবুও নিশ্চিত জানি,একদিন হবে তোরসোনার সংসার ।।উঠোনে পড়বে এসে একফালি রোদতার পাশে শিশু গুটিকয়তাহাদের ধুলোমাখা হাতে – ধরা দেবেপৃথিবীর সকল বিস্ময়।
আশ্চর্য কবিতা -সুকুমার রায় চণ্ডীপুরের ইংরাজি স্কুলে আমাদের ক্লাশে একটি নূতন ছাত্র আসিয়াছে। তার বয়স বারো-চোদ্দোর বেশি নয়। সে স্কুলে আসিয়া প্রথম দিনই সকলকে জানাইল, “আমি পোইট্রি লিখতে পারি!” এ কথা শুনিয়া ক্লাশসুদ্ধ সকলে অবাক হইয়া গেল; কেবল দু-একজন হিংসা করিয়া বলিল, “আমরাও ছেলেবেলায় ঢের ঢের কবিতা লিখেছি।” নূতন ছাত্রটি বোধ হয় ভাবিয়াছিল, সে কবিতা
কব্বর – হুমায়ূন আহমেদ তিনি শায়িত ছিলেন গাঢ় কব্বরেযার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ বেঁধে দেয়া,গভীরতা নয়।কব্বরে শুয়ে তাঁর হাত কাঁপে পা কাঁপেগভীর বিস্ময়বোধ হয়।মনে জাগে নানা সংশয়।মৃত্যু তো এসে গেছে, শুয়ে আছে পাশেতবু কেন কাটে না এ বেহুদা সংশয়?
আহ্লাদী -সুকুমার রায় হাসছি মোরা হাসছি দেখ, হাসছি মোরা আহ্লাদী,তিন জনেতে জট্লা ক’রে ফোক্লা হাসির পাল্লা দি।হাসতে হাসতে আসছে দাদা ,আসছি আমি, আসছে ভাই,হাসছি কেন কেউ জানে না, পাচ্ছে হাসি হাসছি তাই।ভাবছি মনে, হাসছি কেন? থাকব হাসি ত্যাগ করে,ভাবতে গিয়ে ফিকফিকিয়ে ফেলছি হেসে ফ্যাক ক’রে ।পাচ্ছে হাসি চাপতে গিয়ে, পাচেছ হাসি চোখ বুজে,পাচ্ছে হাসি চিমটি
আড়ি -সুকুমার রায় কিসে কিসে ভাব নেই? ভক্ষক ও ভক্ষ্যে-বাঘে ছাগে মিল হলে আর নেই রক্ষে। শেয়ালের সাড়া পেলে কুকুরেরা তৈরি,সাপে আর নেউলে ত চিরকাল বৈরী! আদা আর কাঁচকলা মেলে কোনোদিন্ সে?কোকিলের ডাক শুনে কাক জ্বলে হিংসেয়। তেলে দেওয়া বেগুনের ঝগড়াটা দেখিনি?ছ্যাঁক্ ছ্যাঁক্ রাগ যেন খেতে আসে এখনি। তার চেয়ে বেশি আড়ি আমি পারি কহিতে-তোমাদের কারো কারো, কেতাবের সহিতে।
আয়রে আলো আয় -সুকুমার রায় পুব গগনে রাত পোহাল, ভোরের কোণে লাজুক আলোনয়ন মেলে চায়।আকাশতলে ঝলক জ্বলে,মেঘের শিশু খোলার ছলেআলোক মাখে গায়।।সোনার আলো, রঙিন্ আলো,স্বপ্নে আঁকা নবীন আলো -আয়রে আলো আয়।আয়রে নেমে আঁধার পরে,পাষাণ কালো ধৌত করেআলোর ঝরণায়।।ঘুম ভাঙান পাখির তানেজাগ্রে আলো আকুল গানেঅকুল নীলিমায়।আলসভরা আখিঁর কোণে,দুঃখ ভয়ে আঁধার মনে,আয়রে আলো আয়।।
একুশে আইন -সুকুমার রায় শিবঠাকুরের আপন দেশে ,আইন কানুন সর্বনেশে!কেউ যদি যায় পিছলে প’ড়ে,প্যায়দা এসে পাক্ড়ে ধরে ,কাজির কাছে হয় বিচার- একুশ টাকা দন্ড তার।।সেথায় সন্ধে ছটার আগেহাঁচতে হলে টিকিট লাগেহাঁচলে পরে বিন্ টিকিটেদম্দমাদম্ লাগায় পিঠে ,কোটাল এসে নস্যি ঝাড়ে- একুশ দফা হাচিয়ে মারে।।কারুর যদি দাতটি নড়ে,চার্টি টাকা মাশুল
সর্বহারা – কাজী নজরুল ইসলাম ব্যথার সাতার-পানি-ঘেরা চোরাবালির চর, ওরে পাগল! কে বেঁধেছিস সেই চরে তোর ঘর? শূন্যে তড়িৎ দেয় ইশারা, হাট তুলে দে সর্বহারা, মেঘ-জননীর অশ্র”ধারা ঝ’রছে মাথার’ পর, দাঁড়িয়ে দূরে ডাকছে মাটি দুলিয়ে তর”-কর।। কন্যারা তোর বন্যাধারায়
আশু-প্রয়াণ গীতি – কাজী নজরুল ইসলাম কোরাস্: বাংলার ‘শের’, বাংলার শির,বাংলার বাণী, বাংলার বীরসহসা ও-পারে অস্তমান।এপারে দাঁড়ায়ে দেখিল ভারত মহা-ভারতের মহাপ্রয়াণ॥ বাংলার ঋষি বাংলার জ্ঞান বঙ্গবাণীর শ্বেতকমল, শ্যাম বাংলার বিদ্যা-গঙ্গা অবিদ্যা-নাশী তীর্থ-জল! মহামহিমার বিরাট পুরুষ শক্তি-ইন্দ্র তেজ-তপন— রক্ত-উদয় হেরিতে সহসা হেরিনু সে-রবি মেঘ-মগন। কোরাস্: বাংলার ‘শের’, বাংলার শির,বাংলার বাণী, বাংলার বীরসহসা ও-পারে অস্তমান।এপারে দাঁড়ায়ে দেখিল ভারত মহা-ভারতের মহাপ্রয়াণ॥ মদ-গর্বীর গর্ব-খর্ব বল-দর্পীর দর্প-নাশশ্বেত-ভিতুদের শ্যাম
জাগরণী – কাজী নজরুল ইসলাম কোরাস্:— ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও!ফিরে চাও ওগো পুরবাসী,সন্তান দ্বারে উপবাসী,দাও মানবতা ভিক্ষা দাও!জাগো গো,জাগো গো,তন্দ্রা-অলস জাগো গো,জাগো রে! জাগো রে! ১মুক্ত করিতে বন্দিনী মা’য়কোটি বীরসুত ঐ হেরো ধায়মৃত্যু-তোরণ-দ্বার-পানে—কার টানে?দ্বার খোলো দ্বার খোলো!একবার ভুলে ফিরিয়া চাও। কোরাস্:— ভিক্ষা দাও… ২জননী আমার ফিরিয়া চাও!ভাইরা আমার ফিরিয়া চাও!চাই মানবতা, তাই দ্বারেকর হানি মা গো বারেবারে—দাও মানবতা ভিক্ষা দাও!পুরুষ-সিংহ