কবিতা

নিভৃত

নিভৃত – সুকান্ত ভট্টাচার্য বিষণ্ণ রাত, প্রসন্ন দিন আনোআজ মরণের অন্ধ অনিদ্রায়,সে অন্ধতায় সূর্যের আলো হানো,শ্বেত স্বপ্নের ঘোরে যে মৃতপ্রায়। নিভৃত-জীবন-পরিচর্যায় কাটেযে দিনের, আজ সেখানে প্রবল দ্বন্দ্ব।নিরন্ন প্রেম ফেরে নির্জন হাটে,অচল চরণ ললাটের নির্বন্ধ?জীবন মরণে প্রাণের গভীরে দোলাকাল রাতে ছিল নিশীথ কুসুমগন্ধী,আজ সূর্যের আলোয় পথকে ভোলামনে হয় ভীরু মনের দুরভিসন্ধি।।

নিভৃত Read More »

কবে

কবে – সুকান্ত ভট্টাচার্য অনেক স্তব্ধ দিনের এপারে চকিত চুতুর্দিক,আজো বেঁচে আছি মৃত্যুতাড়িত আজো বেঁচে আছি ঠিক।দুলে ওঠে দিন; শপথমুখর কিষাণ শ্রমিকপাড়া,হাজারে হাজারে মাঠে বন্দরে আজকে দিয়েছে সাড়া।জ’লে আলো আজ, আমাদের হাড়ে জমা হয় বিদ্যুৎ,নিহত দিনের দীর্ঘ শাখায় ফোটে বসন্তদূত।মূঢ় ইতিহাস; চল্লিশ কোটি সৈন্যের সেনাপতি।সংহত দিন, রুখবে কে এই একত্রীভূত গতি?জানি আমাদের অনেক যুগের সঞ্চিত

কবে Read More »

অলক্ষ্যে

অলক্ষ্যে – সুকান্ত ভট্টাচার্য আমার মৃত্যুর পর কেটে গেল বৎসর বৎসর;ক্ষয়িষ্ণু স্মৃতির ব্যর্থ প্রচেষ্টাও আজ অগভীর,এখন পৃথিবী নয় অতিক্রান্ত প্রায়ান্ধ স্থবির;নিভেছে প্রদূম্রজ্বালা, নিরঙ্কুশ সূর্য অনশ্বর ;স্তব্ধতা নেমেছে রাত্রে থেমেছে নির্ভীক তীক্ষ্ণস্বর-অথবা নিরন্ন দিন, পৃথিবীতে দুর্ভিক্ষ ঘোষণা ;উদ্ধত বজ্রের ভয়ে নিঃশব্দে মৃত্যুর আনাগোনা,অনন্য মানবসত্তা ক্রমান্বয়ে স্বল্পপরিসর। গলিত স্মৃতির বাস্প সেদিনের পল্লব শাখায়বারম্বার প্রতারিত অস্ফুট কুয়াশা রচনায়;বিলুপ্ত বজ্রের

অলক্ষ্যে Read More »

মহাত্মাজীর প্রতি

মহাত্মাজীর প্রতি – সুকান্ত ভট্টাচার্য চল্লিশ কোটি জনতার জানি আমিও যে একজন,হাঠাৎ ঘোষণা শুনেছি; আমার জীবনে শুভক্ষণএসেছে, তখনি মুছে গেছে ভীরু চিন্তার হিজিবিজি।রক্তে বেজেছে উৎসব, আজ হাত ধরো গান্ধীজী।এখানে আমরা লড়েছি, মরেছি, করেছি অঙ্গীকার,এ মৃতদেহের বাধা ঠেলে হব অজেয় রাজ্য পার।এসেছে বন্যা, এসেছে মৃত্যু, পরে যুদ্ধের ঝড়,মন্বন্তর রেখে গেছে তার পথে পথে স্বাক্ষর,প্রতি মুহূর্তে বুঝেছি

মহাত্মাজীর প্রতি Read More »

হনহন পনপন

হনহন পনপন -সুকুমার রায় চলে হনহন       ছোটে পনপন ঘোরে বনবন       কাজে ঠনঠন বায়ু শনশন       শীতে কনকন কাশি খনখন       ফোঁড়া টনটন মাছি ভনভন       থালা ঝন ঝন।

হনহন পনপন Read More »

‘ভাল ছেলের’ নালিশ

‘ভাল ছেলের’ নালিশ -সুকুমার রায় মাগো!প্রসন্নটা দুষ্টু এমন! খাচ্ছিল সে পরোটাগুড় মাখিয়ে আরাম ক’রে বসে -আমায় দেখে একটা দিল ,নয়কো তাও বড়টা,দুইখানা সেই আপনি খেল ক’ষে!তাইতে আমি কান ধরে তার একটুখানি পেঁচিয়েকিল মেরেছি ‘হ্যাংলা ছেলে’ বলে-অম্‌নি কিনা মিথ্যা করে ষাঁড়ের মত চেচিয়েগেল সে তার মায়ের কাছে চলে! মাগো!এম্‌নিধারা শয়তানি তার, খেলতে গেলাম দুপুরে,বল্‌ল, ‘এখন খেলতে আমার

‘ভাল ছেলের’ নালিশ Read More »

অতীতের ছবি – পর্ব ৬

অতীতের ছবি – পর্ব ৬ -সুকুমার রায় ধরি নব পথ নূতন ধারানবীন প্রেরণে আসিল যারা,আজি তাঁহাদের চরণ ধরিভক্তিভরে সবে স্মরণ করি।শাস্ত্রী শবনাথ সকল ফেলিবিষয় বাসনা চরণে ঠেলিবহু নির্যাতন বহিয়া শিরে,অনুরাগে ভাসি নয়ন নীরে,সর্বত্যাগী হয়ে ব্যাকুল প্রাণেছুটে আসে ওই কিসের টানে,দেখ ওই চলে পাগলমতভক্তশ্রেষ্ট বীর বিনয়নত,বিজয় গোঁসাই সরল প্রাণ-হেরি আজি তাঁই প্রেম বয়ান।সাধু রামতনু জ্ঞানে প্রবীণ,শিশুর

অতীতের ছবি – পর্ব ৬ Read More »

অতীতের ছবি – পর্ব ৫

অতীতের ছবি – পর্ব ৫ -সুকুমার রায় সমাজে সুদিন এল আবার,ক্রমে প্রসারিল জীবন তার।কেশব আপন প্রতিভা বলেযতনে গঠিল যুবকদলে।নগরে নগরে হল প্রচার-“ধর্ম রাজ্যে নাহি জাতিবিচার;নাহি ভেদ হেথা নারী ও নরে,ভক্তি আছে যার সে যায় ত’রে।জাতিবর্ণ- ভেদ কুরীতি যতভাঙি দাও চিরদিনের মত।দেশ দেশান্তরে ধাঊক মন,সর্বধর্মবাণী কর চয়ন;ধর্মে ধর্মে নাহি বিরোধ রবে,মহা সমম্বয় গঠিত হবে।”পশিল সে বাণী

অতীতের ছবি – পর্ব ৫ Read More »

অতীতের ছবি – পর্ব ৪

অতীতের ছবি – পর্ব ৪ -সুকুমার রায় ধনী যুবা এক শ্মশান ঘাটেএকা বসি তার রজনী কাটে।অদূরে অন্তিম শয়নোপরিদিদিমা তাহার আছেন পড়ি,সম্মুখে পূর্ণিমা গগনতলেপিছনে শ্মশানে আগুন জ্বলে,তাহারি মাঝারে নদীর তীরেহরিনাম ধ্বনি উঠিছে ধীরে।একাকী যুবক বসিয়া কুলেসহসা কি ভাবি আপনা ভুলে।প্রসন্ন আকাশ চাঁদিম রাতিধরিল অপূর্ব নতুন ভাতি,তুচ্ছ বোধ হল ধন – বিভববিলাস বাসনা অসার সব,অজানা কি যেন

অতীতের ছবি – পর্ব ৪ Read More »

অতীতের ছবি – পর্ব ৩

অতীতের ছবি – পর্ব ৩ -সুকুমার রায় এখনও গভীর তমসা রাতি,ভারত ভবনে নিভিছে বাতি -মানুষ না দেখি ভারতভূমে,সবাই মগন গভীর ঘুমে।কত জাতি আজ হেলার ভরেহেথায় আসিয়া বসতি করে।ভারতের বুকে নিশান গাথিবসেছে সবলে আসন পাতি।নিজ ধনমান নিজ বিভববিদেশীর হাতে সঁপিয়া সব,ভারতের মুখে না ফুটে বাণী,মৌন রহে দেশ শরম মানি। -হেনকালে শুন ভেদি আঁধারসুগম্ভীর বানী উঠিল কার-“ভাব

অতীতের ছবি – পর্ব ৩ Read More »