আনোয়ার

আনোয়ার -কাজী নজরুল ইসলাম [স্থান– প্রহরী–বেষ্টিত অন্ধকার কারাগৃহ, কনস্ট্যান্টিনোপ্‌ল্‌।কাল–অমাবস্যার নিশীথ রাত্রি।] [চারিদিকে নিস্তব্ধ নির্বাক। সেই মৌনা নিশীথিনীকে ব্যথা দিতেছিল শুধু কাফ্রি-সাস্ত্রীর পায়চারির বিশ্রী খট্‌খট্ শব্দ। ঐ জিন্দানখানায় মহাবাহু আনোয়ারের জাতীয়-সৈন্যদলের সহকারী এক তরুণ সেনানী বন্দী। তাহার কুঞ্চিত দীর্ঘ কেশ, ডাগর চোখ, সুন্দর গঠন– সমস্ত-কিছুতে যেন একটা ব্যথিত-বিদ্রোহের তিক্ত-ক্রন্দন ছলছল করিতেছিল। তরুণ প্রদীপ্ত মুখমণ্ডলে চিন্তার রেখাপাতে তাহাকে […]

আনোয়ার Read More »

খোকার সাধ

খোকার সাধ -কাজী নজরুল ইসলাম আমি হব সকাল বেলার পাখিসবার আগে কুসুম-বাগে উঠব আমি ডাকি।সূয্যিমামা জাগার আগে উঠব আমি জেগে,‘হয়নি সকাল, ঘুমো এখন’- মা বলবেন রেগে।বলব আমি, ‘আলসে মেয়ে ঘুমিয়ে তুমি থাক,হয়নি সকাল- তাই বলে কি সকাল হবে না ক?আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে!’ঊষা দিদির

খোকার সাধ Read More »

কামাল পাশা

কামাল পাশা -কাজী নজরুল ইসলাম [তখন শরৎ-সন্ধ্যা। আস্মানের আঙিনা তখন কার্বালা ময়দানের মতো খুনখারাবির রঙে রঙিন। সেদিনকার মহা-আহবে গ্রীক-সৈন্য সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হইহা গিয়াছে। তাহাদের অধিকাংশ সৈন্যই রণস্থলে হত অবস্থায় পড়িয়া রহিয়াছে। বাকি সব প্রাণপণে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিতেছে। তুরস্কের জাতীয় সৈন্যদলের কাণ্ডারী বিশ্বত্রাস মহাবাহু কামাল-পাশা মহাহর্ষে রণস্থল হইতে তাম্বুতে ফিরিতেছেন। বিজয়োন্মত্ত সৈন্যদল মহাকল্লোলে অম্বর-ধরণী কাঁপাইয়া তুলিতেছে।

কামাল পাশা Read More »

রক্তাম্বরধারিণী মা

রক্তাম্বরধারিণী মা -কাজী নজরুল ইসলাম রক্তাম্বর পর মা এবার      জ্বলে পুড়ে যাক শ্বেত বসন।দেখি ঐ করে সাজে মা কেমন      বাজে তরবারি ঝনন-ঝন।সিঁথির সিঁদুর মুছে ফেল মা গো      জ্বাল সেথা জ্বাল কাল্-চিতা।তোমার খড়গ-রক্ত হউক      স্রষ্টার বুকে লাল ফিতা।এলোকেশে তব দুলুক ঝন্‌ঝা      কাল-বৈশাখী ভীম তুফান,চরণ-আঘাতে উদ্গারে যেন 

রক্তাম্বরধারিণী মা Read More »

বিদ্রোহী

বিদ্রোহী -কাজী নজরুল ইসলাম বল        বীর –               বল উন্নত মম শির!শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির!                 বল        বীর –বল   মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’       চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’       ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া       খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া,       উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর! মম   ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর!                 বল        বীর –              আমি   চির উন্নত শির! আমি  

বিদ্রোহী Read More »

কুলি-মজুর

কুলি-মজুর -কাজী নজরুল ইসলাম দেখিনু সেদিন রেলে,কুলি ব’লে এক বাবু সা’ব তারে ঠেলে দিলে নীচে ফেলে!চোখ ফেটে এল জল,এমনি ক’রে কি জগৎ জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল?যে দধীচিদের হাড় দিয়ে ঐ বাষ্প-শকট চলে,বাবু সা’ব এসে চড়িল তাহাতে, কুলিরা পড়িল তলে।বেতন দিয়াছ?-চুপ রও যত মিথ্যাবাদীর দল!কত পাই দিয়ে কুলিদের তুই কত ক্রোর পেলি বল্‌?রাজপথে তব চলিছে মোটর,

কুলি-মজুর Read More »

প্রভাতী

প্রভাতী -কাজী নজরুল ইসলাম ভোর হোলোদোর খোলো      খুকুমণি ওঠ রে! ঐ ডাকেজুঁই-শাখে     ফুল-খুকী ছোট রে! রবি মামাদেয় হামা     গায়ে রাঙা জামা ঐ,দারোয়ানগায় গান     শোনো ঐ, ‘রামা হৈ!’ ত্যাজি’ নীড়ক’রে ভিড়     ওড়ে পাখী আকাশে,এন্তার গান তার      ভাসে ভোর বাতাসে! চুল বুলবুল বুল    শিস দেয় পুস্পে, এইবারএইবার     খুকুমনি উঠবে! খুলি’হালতুলি’ পাল 

প্রভাতী Read More »

ব্যথা-নিশীথ

ব্যথা-নিশীথ -কাজী নজরুল ইসলাম এই নীরব নিশীথ রাতেশুধু জল আসে আঁখিপাতে।    কেন কি কথা স্মরণে রাজে?   বুকে কার হতাদর বাজে?   কোন্‌ ক্রন্দন হিয়া-মাঝে   ওঠে গুমরি’ ব্যর্থতাতে        আর জল ভরে আঁখি-পাতে।।    মম বর্থ জীবন-বেদনা   এই নিশীথে লুকাতে নারি,   তাই গোপনে একাকী শয়নে   শুধু নয়নে উথলে বারি।   ছিল সেদিনো এমনি নিশা,   বুকে জেগেছিল শত

ব্যথা-নিশীথ Read More »

শায়ক-বেঁধা পাখী

শায়ক-বেঁধা পাখী -কাজী নজরুল ইসলাম রে নীড়-হারা, কচি বুকে শায়ক-বেঁধা পাখী!   কেমন ক’রে কোথায় তোরে আড়াল দিয়ে রাখি?   কোথায় রে তোর কোথায় ব্যথা বাজে?   চোখের জলে অন্ধ আঁখি কিছুই দেখি না যে?   ওরে মাণিক! এ অভিমান আমায় নাহি সাজে-তোর জুড়াই ব্যথা আমার ভাঙা বক্ষপুটে ঢাকি’। ওরে আমার কোমল-বুকে-কাঁটা-বেঁধা পাখী, কেমন ক’রে কোথায় তোরে আড়াল দিয়ে রাখি?  বক্ষে বিঁধে

শায়ক-বেঁধা পাখী Read More »

সন্ধ্যাতারা

সন্ধ্যাতারা -কাজী নজরুল ইসলাম ঘোম্‌টা-পরা কাদের ঘরের বৌ তুমি ভাই সন্ধ্যাতারা?তোমার চোখে দৃষ্টি জাগে হারানো কোন্‌ মুখের পারা।।  সাঁঝের প্রদীপ আঁচল ঝেঁপে বঁধুর পথে চাইতে বেঁকে চাউনিটি কার উঠছে কেঁপে  রোজ সাঁঝে ভাই এমনি ধারা।। কারা হারানো বধূ তুমি অস-পথে মৌন মুখেঘনাও সাঁঝে ঘরের মায়া গৃহহীনের শূন্য বুকে।  এই যে নিতুই আসা-যাওয়া, এমন কর”ণ মলিন চাওয়া, কার তরে হায় আকাশ-বধু  তুমিও কি

সন্ধ্যাতারা Read More »