বাসর

বাসর – হুমায়ূন আহমেদ কপাটহীন একটা অস্থির ঘরে তার সঙ্গে দেখা ।লোহার তৈরি ছোট্ট একটা ঘর ।বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে কোন যোগ নেই ।ঘরটা শুধু উঠছে আর নামছে ।নামছে আর উঠছে ।মানুষ ক্লান্ত হয় –এ ঘরের কোন ক্লান্তি নেই।এ রকম একটা ঘরেই বোধহয় বেহুলার বাসর হয়েছিল ।নিশ্ছিদ্র লোহার একটা ঘর ।কোন সাপ সেখানে ঢুকতে পারবে না […]

বাসর Read More »

সরোদ বাজাতে জানলে

সরোদ বাজাতে জানলে – পূর্ণেন্দু পত্রী আমার এমন কিছু দুঃখ আছে যার নাম তিলক কামোদএমন কিছু স্মৃতি যা সিন্ধুভৈরবীজয়জয়ন্তীর মতো বহু ক্ষত রয়ে গেছে ভিতর দেয়ালেকিছু কিচু অভিমানইমনকল্যাণ।সরোদ বাজাতে জানলে বড় ভালো হতো।পুরুষ কিভাবে কাঁদে সেই শুধু জানে। কার্পেটে সাজানো প্রিয় অন্তঃপুরে ঢুকে গেছে জল।মুহুর্মুহু নৌকাডুবি, ভেসে যায় বিরুদ্ধ নোঙর।পৃথিবীর যাবতীয় প্রেমিকের সপ্তডিঙা ডুবেছে যেখানেসেখানে নারীর

সরোদ বাজাতে জানলে Read More »

সেই সবও তুমি

সেই সবও তুমি – পূর্ণেন্দু পত্রী তোমাকেই দৃশ্য মনে হয়।তোমার ভিতরে সব দৃশ্য ঢুকে গেছে।কাচের আলমারি যেন, থাকে থাকে, পরতে পরতেশরতের, হেমন্তের, বসন্তের শাড়ি গয়না দুল,নদীর নবীন বাঁকা, বৃষ্টির নুপুর, জল, জলদ উদ্ভিদ। সাঁচীস্তুপে, কোনারকে যায় যারা, গিয়ে ফিরে আসেদুধ জ্বাল দিয়ে দিয়ে ক্ষীর করা স্বাদ জিভে নিয়েতোমার ভিতরে সেই ভাস্কর্যেরও লাবণ্য রয়েছে।কোন্‌খানে আছে?চুলে না গ্রীবায়,

সেই সবও তুমি Read More »

স্রোতস্বিনী আছে, সেতু নেই

স্রোতস্বিনী আছে, সেতু নেই – পূর্ণেন্দু পত্রী তুমি বললে, রৌদ্র যাও, রৌদ্রে তো গেলামতুমি বললে, অগ্নিকুণ্ড জ্বালো, জ্বালালাম।সমস্ত জমানো সুখ-তুমি বললে, বেচে দেওয়া ভালোডেকেছি নীলাম।তবু আমি একা।আমাকে করেছ তুমি একা।একাকিত্বটুকুতেও ভেঙে চুরে শত টুকরো করেবীজ বপনের মতো ছড়িয়ে দিয়েছ জলে-স্থলে।তুমি বলেছিলে বলে সাজসজ্জা ছেড়েছি, ছুঁড়েছি।যে অরণ্য দেখিয়েছ, তারই ডাল কেটেছি, খুঁড়েছি।যখনই পেতেছ হাত দিয়েছি উপুড়

স্রোতস্বিনী আছে, সেতু নেই Read More »

হালুম

হালুম -পূর্ণেন্দু পত্রী মাথায় মুকুটটা পরিয়ে দিতেই রাজা হয়ে গেলেন তিনি।আর সিংহাসনে পাছা রেখেই হাঁক পাড়লেনহালুম।অমনি মন্ত্রীরা ছুটলো ঘুরঘুট্টি বনে হরিণের মাংস সেকতেসেনাপতিরা ছুটলো খলখলে সমুদ্রে ফিস-ফ্রাইয়ের খোঁজেকোতোয়ালরা ছুটলো হাটে-বাজারে যেখান থেকে যা আনা যায় উপড়েবরকন্দাজেরা ক্ষেত খামার ল্ড ভণ্ড করে বানালো ফ্রুটল্যলাড।রাজা সরলেন ব্রেক ফাস্ট।তারপরেই সিং-দুয়ারে বেজে উঠলো সাত-মণ সোনার ঘন্টা।এবার রাজদরবার।আসমুদ্র-হিমাচরের ন্যাংটো, আধ-ন্যাংটো

হালুম Read More »

হে সময়, অশ্বারোহী হও

হে সময়, অশ্বারোহী হও – পূর্ণেন্দু পত্রী বিরক্ত নদীর মতো ভুরু কুঁচকে বসে আছে আমাদের কাল।যাচ্ছি যাব, যাচ্ছি যাব এই গড়িমসি করে চূড়ো ভাঙা চাকা ভাঙা রথযে রকম ঘাড় গুজে ধুলোয় কাতর, সে রকমই শুয়ে বসে আছে।খেয়াঘাটে পারাপার ভুলে-যাওয়া, নৌকার মতন, সময় এখন। মনে হয় সময়ের পায়ে ফুটে গেছে দীর্ঘ পেরেক বা মনসার কাঁটাছিড়ে গেছে স্ম্যান্ডেলের

হে সময়, অশ্বারোহী হও Read More »

ভালোবাসা

ভালোবাসা – মহাদেব সাহা ভালোবাসা তুমি এমনি সুদূরস্বপ্নের চে’ও দূরে,সুনীল সাগরে তোমাকে পাবে নাআকাশে ক্লান্ত উড়ে!ভালোবাসা তুমি এমনি উধাওএমনি কি অগোচরতোমার ঠিকানা মানচিত্রেরউড়ন্ত ডাকঘরসেও কি জানে না? এমনি নিখোঁজএমনি নিরুদ্দেশপাবে না তোমাকে মেধা ও মননকিংবা অভিনিবেশ?তুমি কি তাহলে অদৃশ্য এতোএতোই লোকোত্তর,সব প্রশ্নের সম্মুখে তুমিস্থবির এবং জড়?ভালোবাসা তবে এমনি সুদূরএমনি অলীক তুমিএমনি স্বপ্ন? ছোঁওনি কি কভুবাস্তবতার

ভালোবাসা Read More »

ভালোবাসা আমি তোমার জন্য

ভালোবাসা আমি তোমার জন্য – মহাদেব সাহা ভালোবাসা আমি তোমাকে নিয়েইসবচেয়ে বেশি বিব্রত আজতেমাকে নিয়েই এমন আহতএতো অপরাধী, এতো অসহায়!তোমাকে নিয়েই পালিয়ে বেড়াইতোমাকে নিয়েই ব্যাকুল ফেরারী।ভালোবাসা তুমি ফুল হলে তারফুলদানি পেতে অভাব ছিলো না,মেঘ হলে তুমি সুদূর নীলিমাতোমাকে দিতাম উড়ে বেড়াবার;জল হলে তুমি সমুদ্র ছিলোতোমারই জন্য অসীম পাত্র-প্রসাধনী হলে তোমাকে রাখারছিলো উজ্জ্বল অশেষ শো-কেস,এমনকি তুমি

ভালোবাসা আমি তোমার জন্য Read More »

ভূদৃশ্যের বর্ণনা

ভূদৃশ্যের বর্ণনা – মহাদেব সাহা ভূদৃশ্য এমন হয় চতুর্দিকে অদম্য পাহাড়, বাবলার ঝোপপাশে মানুষের খেয়ালি বসতি, কাদামাটি ধুলোর বিস্তারকেউ করে গান, কেউ অশ্রু ফেলে, নিমজ্জিত ঘর আর বাড়ি,ভূদৃশ্য এমন হয় মাঝে নদী মাথায় আকাশ, উঁকি দেয়ছেঁড়া চাঁদ, গাঢ় পাতা, হাস্যহীন কলরোলহীন তবু পাড়া-মানুষ ফেলেছে তাঁবু বহুদূর বনের পশ্চাতে কিন্তু চিতাবাঘআর প্রফুল্ল হরিণ জল খায় ঘোরে

ভূদৃশ্যের বর্ণনা Read More »

মানুষের বুকে এতো দীর্ঘশ্বাস

মানুষের বুকে এতো দীর্ঘশ্বাস – মহাদেব সাহা কেউ জানে না একেকটি মানুষ বুকের মধ্যে কী গভীর দীর্ঘশ্বাসনিয়ে বেড়ায়-কোনো বিষণ্ন ক্যাসেটেও এতো বেদনার সংগ্রহ নেই আর,এই বুকের মধ্যে দীর্ঘশ্বাসের পর দীর্ঘশ্বাস যেন একখানিঅন্তহীন প্রগাঢ় এপিক!পাতায় পাতায় চোখের জল সেখানে লিপিবদ্ধআর মনোবেদনা সেই এপিকের ট্রাজিক মলাট;মানুষের বুকে এতো দীর্ঘশ্বাস, এতো দীর্ঘশ্বাস, কে জানতো!দীর্ঘশ্বাসভরা এই বুকের চেয়ে শীতপ্রধান

মানুষের বুকে এতো দীর্ঘশ্বাস Read More »