প্রবাসের শেষে

প্রবাসের শেষে -কাজী নজরুল ইসলাম যমুনা, আমার হাত ধরো, স্বর্গে যাবো।এসো, মুখে রাখো মুখ, চোখে চোখ, শরীরে শরীরনবীনা পাতার মতো শুদ্ধরূপ, এসোস্বর্গ খুব দুরে নয়, উত্তর সমুদ্র থেকে যে রকম বসন্ত প্রবাসেউড়ে আসে কলস্বর, বাহু থেকে শীতের উত্তাপযে রকম অপর বুকের কাছে ঋণী হয়; যমুনা, আমার হাত ধরো,স্বর্গে যাবো। আমার প্রবাস আজ শেষ হলো, এরকম মধুর […]

প্রবাসের শেষে Read More »

বাড়ি ফেরা

বাড়ি ফেরা -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রাত্তির সাড়ে বারোটায় বৃষ্টি, দুপুরে অত্যন্ত শুক্‌নো এবং ঝক্‌্‌ঝকেছিল পথ, মেঘ থেকে কাদা ঝরেছে, খুবই দুঃখিত মূর্তি একাহেঁটে যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে, কালো ভিজে চুপচাপ দ্বিধায়ট্রাম বাস বন্ধ, রিক্সা ট্যাক্সি-পকেটে নেই, পৃথিবী তল্লাসী হয়ে গেছে পরশুদিনপুলিশের হাতে শাস্তি এখন, অথবা নির্জনতাই প্রধান অস্ত্র এই বুধবার রাত্তিরে।অনেক মোটরকারের শব্দ হয় না, ঘুমন্ত হেডলাইট,

বাড়ি ফেরা Read More »

ভালোবাসা

ভালোবাসা -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ভালোবাসা নয় স্তনের ওপরে দাঁত?ভালোবাসা শুধু শ্রাবণের হা-হুতাশ?ভালোবাসা বুঝি হৃদয় সমীপে আঁচ?ভালোবাসা মানে রক্ত চেটেছে বাঘ! ভালোবাসা ছিল ঝর্ণার পাশে একাসেতু নেই আকাশে পারাপারভালাবাসা ছিল সোনালি ফসলে হওয়াভালোবাসা ছিল ট্রেন লাইনের রোদ। শরীর ফুরোয় ঘামে ভেসে যায় বুকঅপর বহুতে মাথা রেখে আসে ঘুমঘুমের ভিতরে বারবার বলি আমিভালোবাসাকেই ভালবাসা দিয়ে যাবো।

ভালোবাসা Read More »

মানে আছে

মানে আছে -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আচমকা স্রোতের পাশে হেলে পড়া কম বৃক্ষটিএরও কোনো মানে আছে। নির্জন মাঠের পোড়োবাড়ি- হা হা করে ভাঙা পাল্লাএরও কোনো মানে আছে?ঠিক স্বপ্ন নয়- মাঝে মাঝে চৈতন্যের প্রদোষে সন্ধ্যায়শিরশিরে অনুভূতিকি যেন ছিল বা আছে অথবা যা দেখা যায় নাদুরস্ত পশুর মতো ছুটে আসে বিমূঢ়তাজানলার পর্দাটা দোলে, থেমে যায়, দুলে ওঠেএরও কোনো মানে আছে।চুম্বনসংলগ্ন

মানে আছে Read More »

শব্দ

শব্দ -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বালি ঝুমকো, হলুদ নাভি, শূন্য হাস্যরূপালি ফল, নীল মিছিল, চিড়িক চক্ষু… চিড়িক না সুখ? চিড়িক শব্দে ঢ্যাঁড়া বসালুমরূপালি ফল, না রূপালি উরুত? দ্রিদিম জ্যোৎস্নালিখে ভয় হয়দ্রিদিম না স্মৃতি? জ্যোৎস্না না জল? অথবা সাগর?দ্রিতিম সাগর? ঠিক ঠিক ঠিক! নিরুপদ্রব। শূন্য হাস্যকুনকি কাফেলা, হাতেম তামস, শালু পালু লুসতামস? আবার ভুলের শব্দ, ভয়ের শব্দ, (কাটতে কলমথর

শব্দ Read More »

শরীর অশরীরী

শরীর অশরীরী -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় কেউ শরীরবাদী বলে আমায় ভর্ৎসনা করলে, তখনই ইচ্ছে হয়অভিমানে অশরীরী হয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যাই।আবার কেউ ‘অশরীরী’ শব্দটি উচ্চারন করলে আমি কান্নার মতনভয় পেয়ে তীব্র কন্ঠে বলি, শরীর, তুমি কোথায়? লুকিও নাএসো, তোমাকে একটু ছুঁই!এই রকমই জীবন ও মানুষের হাঁটা চলার ভাষা-সুতরাং ‘ভাষা’ শব্দটি কারুর মুখে শুনলে মনে হয় পৃথিবীরযাবতীয় ক্ষত্রিয় গদ্যেরবিনাশ

শরীর অশরীরী Read More »

অনর্থক নয়

অনর্থক নয় -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেয়ারা পাঠিয়ে কারা টাকা তোলে ব্যঙ্ক থেকে?আমি তো নিজের সইটা এখনো চিনি নাবিষম টাকার অভাব!নেই। শুধু হৃৎপিন্ড হাওয়া টেনে নেয়েহাসি কুলকুচো করি। মাথায় মুকুট নেই বলেকেউ ধার দিতেও চায় না।কিছু টাকা জমা আছে ব্লাড ব্যাঙ্কে। সামান্য।কাঁটা ছাড়ানো মাছের মতনগদ্য লিখলে ক্যাশ আসে। পারি না। কবিতায় দশ টাকাতাই বা মন্দ কি, কত

অনর্থক নয় Read More »

অপমান এবং নীরাকে উত্তর

অপমান এবং নীরাকে উত্তর -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজনসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজনসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে উঠলে, নীরা, কেন হেসে উঠলে, কেনসহসা ঘুমের মধ্যে যেন বজ্রপাত, যেন সিঁড়িতে দাঁড়িয়েসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে, নীরা, হেসে উঠলে, সাক্ষী রইলো বন্ধু তিনজনসিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কেন হেসে কেন সাক্ষী কেন বন্ধু কেন

অপমান এবং নীরাকে উত্তর Read More »

অসুখের ছড়া

অসুখের ছড়া -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় একলা ঘরে শুয়ে রইলে কারুর মুখ মনে পড়ে নামনে পড়ে না মনে পড়ে না মনে পড়ে না মনে পড়ে নাচিঠি লিখবো কোথায়, কোন মুন্ডহীন নারীর কাছে?প্রতিশ্রুতি মনে পড়ে না চোখের আলো মনে পড়ে নাব্লেকের মতো জানলা খুলে মুখ দেখবো ঈশ্বরের? বৃষ্টি ছিল রৌদ্র ছায়ায়, বাতাস ছিল বিখ্যাতকরমচার সবুজ ঝোপে পূর্বকালের গন্ধ ছিলকত

অসুখের ছড়া Read More »

আমার কয়েকটি নিজস্ব শব্দ

আমার কয়েকটি নিজস্ব শব্দ -সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় পরিত্রাণ, তুমি শ্বেত, একটুও ধূসর নও, জোনাকির পিছনে বিদ্যুৎ,যেমন তোমার চিরকালজোনাকির চিরকাল; স্বর্গ থেকে পতনের পরতোমার অসুখ হলে ভয় পাই, বহু রাত্রি জাগরণ- প্রাচীন মাটিতেতুমি শেষ উত্তরাধিকার। একাদশী পার হলে-তোমার নিশ্চিত পথ্য হবে।আমার সঙ্গম নয় কুয়াশায় সমুদ্র ও নদী;ঐ শব্দ চতুষ্পদ, দ্বিধঅ, কিছুটা উপরে, সার্থকতা যদি উদাসীন;বিপুল তীর্থের পূণ্য-নয়?

আমার কয়েকটি নিজস্ব শব্দ Read More »