প্রশ্নাবলী

প্রশ্নাবলী – নির্মলেন্দু গুণ কী ক’রে এমন তীক্ষ্ণ বানালে আখিঁ,কী ক’রে এমন সাজালে সুতনু শিখা?যেদিকে ফেরাও সেদিকে পৃথিবী পোড়ে ।সোনার কাঁকন যখন যেখানে রাখো,সেখানে শিহরে, ঝংকার ওঠে সুরে । সুঠাম সবুজ মরাল বাঁশের গ্রীবাকঠিন হাতের কোমল পরশে জাগে,চুম্বন ছাড়া কখনো বাঁচে না সে যে ।পুরুষ চোখের আড়ালে পালাবে যদি,কী লাভ তাহলে উর্বশী হয়ে সেজে? বৈধ প্রেমের বাঁধন […]

প্রশ্নাবলী Read More »

মানুষের হৃদয়ে ফুটেছি

মানুষের হৃদয়ে ফুটেছি -নির্মলেন্দু গুণ গতকাল ছিল কালো-লালে মেশাএকটি অদ্ভুত টুনটুনি ।লাফাচ্ছিল ডাল থেকে ডালে,পাতার আড়ালে, ফুল থেকে ফুলে । তার সোনামুখী ঠোঁট, যেনকলমের ডগায় বসানো একরত্তি হীরে ।প্রতিটি আঁচড়ে কেটে ভাগ করছিলফুল থেকে মধু, মধু থেকে ফুল;আমার সমস্ত কলতল ভেসে যাচ্ছিলরক্তকরবীর মধুস্রোতে । আজ সকাল থেকেই রক্তকরবীর ডালেফুলের আগুন-জ্বলা হাত;ফুল তুলছেন এক বৃদ্ধা পূজারিণী ।তার হাতে

মানুষের হৃদয়ে ফুটেছি Read More »

প্রলেতারিয়েত

প্রলেতারিয়েত – নির্মলেন্দু গুণ যতক্ষণ তুমি কৃষকের পাশে আছো,যতক্ষণ তুমি শ্রমিকের পাশে আছো,আমি আছি তোমার পাশেই।যতক্ষণ তুমি মানুষের শ্রমে শ্রদ্ধাশীলযতক্ষণ তুমি পাহাড়ী নদীর মতো খরস্রোতাযতক্ষণ তুমি পলিমৃত্তিকার মতো শস্যময়ততক্ষণ আমিও তোমার।এই যে কৃষক বৃষ্টিজলে ভিজে করছে রচনাসবুজ শস্যের এক শিল্পময় মাঠ,এই যে কৃষক বধূ তার নিপুণ আঙুলেক্ষিপ্র দ্রুততায় ভেজা পাট থেকে পৃথক করছে আঁশ;এই যে

প্রলেতারিয়েত Read More »

রাজকাহিনী

রাজকাহিনী -শামসুর রাহমান ধন্য রাজা ধন্য,দেশজোড়া তার সৈন্য! পথে-ঘাটে-ভেড়ার পাল।চাষীর গরু, মাঝির হাল,ঘটি-বাটি, গামছা, হাঁড়ি,সাত-মহলা আছে বাড়ি,আছে হাতি, আছে ঘোড়া।কেবল পোড়া মুখে পোরারদুমুঠো নেই অন্ন,ধন্য রাজা ধন্য। ঢ্যাম কুড় কুড় বাজনা বাজে,পথে-ঘাটে সান্ত্রী সাজে।শোনো সবাই হুকুমনামা,ধরতে হবে রাজার ধামা।বাঁ দিকে ভাই চলতে মানা,সাজতে হবে বোবা-কানা।মস্ত রাজা হেলে দুলেযখন-তথন চড়ান শূলেমুখটি খোলার জন্য।ধন্য রাজা ধন্য।

রাজকাহিনী Read More »

আমার মৃত্যুর পরেও যদি

আমার মৃত্যুর পরেও যদি -শামসুর রাহমান একটি পাখী রোজ আমার জানালায়আস্তে এসে বসে, তাকায় আশেপাশে।কখনো দেয় শিস, বাড়ায় গলা তার;আবার কখনোবা পাখাটা ঝাপটায়। পালকে তার আঁকা কিসের ছবি যেন,দু’চোখে আছে জমা মেঘের স্মৃতি কিছু;নদীর স্বপ্নের জলজ কণাগুলিএখনো তাঁর ঠোটে হয়তো গচ্ছিত। কাউকে নীড়ে তার এসেছে ফেলে বুঝি?হয়তো সেই নীড়, আকাশই আস্তানা।তাই তো চোখ তার এমন গাঢ় নীল,মেললে

আমার মৃত্যুর পরেও যদি Read More »

দুই বিঘা জমি

দুই বিঘা জমি – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু বিঘে-দুই ছিল মোর ভুঁই, আর সবই গেছে ঋণে। বাবু বলিলেন, ‘বুঝেছ উপেন? এ জমি লইব কিনে।’ কহিলাম আমি, ‘তুমি ভূস্বামী, ভূমির অন্ত নাই – চেয়ে দেখো মোর আছে বড়জোর মরিবার মতো ঠাঁই। শুনি রাজা কহে, ‘বাপু, জানো তো হে, করেছি বাগানখানা, পেলে দুই বিঘে প্রস্থে ও দিঘে সমান

দুই বিঘা জমি Read More »

পণ্ডশ্রম

পণ্ডশ্রম -শামসুর রাহমান এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতারবিলে,আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা গেল উড়ে,কান না পেলে চার দেয়ালে মরব মাথা খুঁড়ে।কান গেলে আর মুখের পাড়ায় থাকল কি-হে বল?কানের শোকে আজকে সবাই মিটিং করি চল।যাচ্ছে, গেল সবই

পণ্ডশ্রম Read More »

ট্রেন

ট্রেন -শামসুর রাহমান ঝক ঝক ঝক ট্রেন চলেছে রাত দুপুরে অই। ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে ট্রেনের বাড়ি কই ? একটু জিরোয়, ফের ছুটে যায় মাঠ পেরুলেই বন। পুলের ওপর বাজনা বাজে ঝন ঝনাঝন ঝন। দেশ-বিদেশে বেড়ায় ঘুরে নেইকো ঘোরার শেষ। ইচ্ছে হলেই বাজায় বাঁশি, দিন কেটে যায় বেশ। থামবে হঠাৎ মজার গাড়ি একটু কেশে খক।

ট্রেন Read More »

একটি ফটোগ্রাফ

একটি ফটোগ্রাফ -শামসুর রাহমান এই যে আসুন, তারপর কী খবর?আছেন তো ভাল? ছেলেমেয়ে?’ কিছু আলাপের পরদেখিয়ে সফেদ দেয়ালের শান্ত ফটোগ্রাফটিকেবললাম জিজ্ঞাসু অতিথিকে–‘এই যে আমার ছোট ছেলে, যে নেই এখন,পাথরের টুকরোর মতনডুবে গেছে আমাদের গ্রামের পুকুরেবছর-তিনেক আগে কাক-ডাকা গ্রীষ্মের দুপুরে।’কী সহজে হয়ে গেল বলা,কাঁপলো না গলাএতটুকু, বুক চিরে বেরুলো না দীর্ঘশ্বাস, চোখ ছলছলকরলো না এবং নিজের

একটি ফটোগ্রাফ Read More »

পতিতা

পতিতা -জীবনানন্দ দাশ আগার তাহার বিভীষিকাভরা,- জীবন মরণময়!সমাজের বুকে অভিশাপ সে যে, – সে যে ব্যাধি,- সে যে ক্ষয়;প্রেমের পসরা ভেঙে ফেলে দিয়ে ছলনার কারাগাররচিয়াছে সে যে,-দিনের আলোয় রুদ্ধ ক’রেছে দ্বার!সূর্যকিরণ চকিতে নিভায়ে সাজিয়াছে নিশাচর,কালনাগিনীর ফনার মতন নাচে সে বুকের’ পর!চক্ষে তাহার কালকুট ঝরে,- বিষপঙ্কিল শ্বাস,সারাটি জীবন মরীচিকা তার,- প্রহসন-পরিহাস!ছোঁয়াচে তাহার ম্লান হ’য়ে যায় শশীতারকার

পতিতা Read More »