এরা যদি জানে

এরা যদি জানে – কামিনী রায় এদেরও তো গড়েছেন নিজে ভগবান্ , নবরূপে দিয়েছেন চেতনা ও প্রাণ ; সুখে দুঃখে হাঁসে কাঁদে স্নেহে প্রেমে গৃহ বাঁধে বিধে শল্যসম হৃদে ঘৃণা অপমান, জীবন্ত মানুষ এরা মায়ের সন্তান।। এরা যদি আপনারে শেখে সম্মানিতে, এরা দেশ-ভক্ত রূপে জন্মভূমি-হিতে মরণে মানিবে ধর্ম বাক্য নহে — দিবে কর্ম ; আলস্য […]

এরা যদি জানে Read More »

পাছে লোকে কিছু বলে

পাছে লোকে কিছু বলে -কামিনী রায় করিতে পারি না কাজ সদা ভয় সদা লাজ সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,- পাছে লোকে কিছু বলে। আড়ালে আড়ালে থাকি নীরবে আপনা ঢাকি, সম্মুখে চরণ নাহি চলে পাছে লোকে কিছু বলে। হৃদয়ে বুদবুদ মত উঠে চিন্তা শুভ্র কত, মিশে যায় হৃদয়ের তলে, পাছে লোকে কিছু বলে। কাঁদে প্রাণ যবে আঁখি

পাছে লোকে কিছু বলে Read More »

স্মৃতিচিহ্ন

স্মৃতিচিহ্ন – কামিনী রায় ওরা ভেবেছিল মনে আপনার নাম মনোহর হর্ম্মরূপে বিশাল অক্ষরে ইষ্টক প্রস্তরে রচি চিরদিন তরে রেখে যাবে ! মূঢ় ওরা, ব্যর্থ মনস্কাম। প্রস্তর খসিয়াছে ভূমে প্রস্তরের পরে, চারিদিকে ভগ্নস্তূপ, তাহাদের তলে লুপ্ত স্মৃতি ; শুষ্ক তৃণ কাল-নদী-জলে ভেসে যায় নামগুলি, কেবা রক্ষা করে! মানব হৃদয় ভুমি করি অধিকার, করেছে প্রতিষ্ঠা যারা দৃঢ়

স্মৃতিচিহ্ন Read More »

চাহিবে না ফিরে?

চাহিবে না ফিরে? -কামিনী রায় পথে দেখে ঘৃণাভরে          কত কেহ গেল সরে উপহাস করি’ কেহ যায় পায়ে ঠেলে ; কেহ বা নিকটে আসি,          বরষি সান্ত্বনারাশি ব্যথিতেরে ব্যথা দিয়ে যায় শেষে ফেলে । পতিত মানব তরে       নাহি কি গো এ সংসারে একটি ব্যথিত প্রাণ, দুটি অশ্রুধার ? পথে পড়ে, অসহায়              পদতলে দলে যায় দু’খানি স্নেহের কর

চাহিবে না ফিরে? Read More »

ইলশে গুঁড়ি

ইলশে গুঁড়ি – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ইলশে গুঁড়ি!          ইলশে গুঁড়ি                ইলিশ মাছের ডিম|         ইলশে গুঁড়ি          ইলশে গুঁড়ি                দিনের বেলায় হিম|             কেয়াফুলে ঘুণ লেগেছে,          পড়তে পরাগ মিলিয়ে গেছে,         মেঘের সীমায় রোদ হেসেছে               আলতা-পাটি শিম্|       ইলশে গুঁড়ি          হিমের কুঁড়ি,               রোদ্দুরে রিম্ ঝিম্|  হালকা হাওয়ায়          মেঘের ছাওয়ায়               ইলশে গুঁড়ির নাচ, –      ইলশে গুঁড়ির          নাচন্ দেখে              নাচছে ইলিশ

ইলশে গুঁড়ি Read More »

ছিন্নমুকুল

ছিন্নমুকুল – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত সবচেয়ে যে ছোট পিড়ি খানি সেখানি আর কেউ রাখেনা পেতে, ছোটথালায় হয় নাকো ভাতবাড়া জল ভরে না ছোট্ট গেলাসেতে। বাড়ির মধ্যে সবচেয়ে যে ছোট খাবার বেলা কেউ ডাকে না তাকে। সবচেয়ে যে শেষে এসেছিল, তারই খাওয়া ঘুচেছে সব আগে। সবচেয়ে যে অল্পে ছিল খুশি, খুশি ছিল ঘেষাঘেষির ঘরে, সেই গেছে হায়,

ছিন্নমুকুল Read More »

জবা

জবা – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত আমারে লইয়া সুখী হও তুমি ওগো দেবী শবাসনা, আর খুঁজিও না মানব-শোনিত, আর তুমি খুঁজিও না। আর মানুষের হৃত্ পিণ্ডটা নিওনা খড়গে ছিঁড়ে, হাহকার তুমি তুলো না গো আর সুখের নিভৃত নীড়ে। এই দেখ আমি উঠেছি ফুটিয়া উজলি পুষ্পসভা, ব্যথিত ধরার হৃত্ পিণ্ডটি আমি যে রক্তজবা। তোমার চরণে নিবেদিত আমি, আমি

জবা Read More »

ঝর্ণা

ঝর্ণা – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ঝর্ণা! ঝর্ণা! সুন্দরী ঝর্ণা!  তরলিত চন্দ্রিকা! চন্দন-বর্ণা!       অঞ্চল সিঞ্চিত গৈরিকে স্বর্ণে,       গিরি-মল্লিকা দোলে কুন্তলে কর্ণে,  তনু ভরি’ যৌবন, তাপসী অপর্ণা!              ঝর্ণা!  পাষাণের স্নেহধারা! তুষারের বিন্দু!  ডাকে তোরে চিত-লোল উতরোল সিন্ধু|       মেঘ হানে জুঁইফুলী বৃষ্টি ও-অঙ্গে,       চুমা-চুমকীর হারে চাঁদ ঘেরে রঙ্গে,  ধূলা-ভরা দ্যায় ধরা তোর লাগি ধর্ণা!              

ঝর্ণা Read More »

দূরের পাল্লা

দূরের পাল্লা – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিপখান তিন-দাঁড় –  তিনজন মাল্লা  চৌপর দিন-ভোর  দ্যায় দূর-পাল্লা!           পাড়ময় ঝোপঝাড়           জঙ্গল-জঞ্জাল,           জলময় শৈবাল           পান্নার টাঁকশাল |  কঞ্চির তীর-ঘর  ঐ-চর জাগছে,  বন-হাঁস ডিম তার  শ্যাওলায় ঢাকছে|           চুপ চুপ – ওই ডুব           দ্যায় পান্ কৌটি           দ্যায় ডুব টুপ টুপ           ঘোমটার বৌটি!  ঝকঝক কলসীর  বক্ বক্ শোন্ গো  ঘোমটার ফাঁক বয়  মন উন্মন

দূরের পাল্লা Read More »

পদ্মার প্রতি

পদ্মার প্রতি – সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত হে পদ্মা! প্রলয়ংকরী! হে ভীষণা! ভৈরবী সুন্দরী! হে প্রগলভা! হে প্রবলা! সমুদ্রের যোগ্য সহচরী তুমি শুধু, নিবিড় আগ্রহ আর পার গো সহিতে একা তুমি সাগরের প্রিয়তমা, অয়ি দুবিনীতে! দিগন্ত বিস্তৃত তোমার হাস্যের কল্লোল তারি মত চলিয়াছে তরঙ্গিয়া, – চির দৃপ্ত, চির অব্যাহত| দুর্নমিত, অসংযত, গূঢ়চারী, গহন গম্ভীর; সীমাহীন অবজ্ঞায় ভাঙিয়া

পদ্মার প্রতি Read More »