খুঁজে আনো

খুঁজে আনো -অরুণ মিত্র ভোরগুলো সব বেমালুম হাওয়া,  নিরেট অন্ধকার থেকে জেগে  একেবারে দাউদাউ দুপুরে।  হাত বাড়িয়ে দিলেই ঝরা পাতা মরা পাতা  আর ইটভাঁটার মুঠোমুঠো ছাই।  কোথায় যে ফুটে আছে ঘুমছোঁয়া শিশিরচোখ  এলিয়ে আছে ভেজা নীলের আকাশ।  খুঁজে আনো ভোরগুলোকে, খোঁজো। 

খুঁজে আনো Read More »

 নিসর্গের বুকে

নিসর্গের বুকে -অরুণ মিত্র আমি এত বয়সে গাছকে বলছি  তোমরা ভাঙা ডালে সূর্য বসাও  হাঃ হাঃ আমি গাছকে বলছি  অন্ধকার হয়েছে আর আমি নদীকে বলছি  তোমার মরা খাতে পরী নাচাও  হাঃ হাঃ আমি নদীকে বলছি  থরায় মাটি ফেটে পড়ছে  আর আমি হাঁটছি রক্তপায়ে  যদি দু-একটা বীজ ভিজে ওঠে  হাঃ হাঃ যদি দু-একটা  নিসর্গের বুকে আমি

 নিসর্গের বুকে Read More »

নত হও, কুর্নিশ করো

নত হও, কুর্নিশ করো -রফিক আজাদ হে কলম, উদ্ধত হ’য়ো না, নত হও, নত হতে শেখো,তোমার উদ্ধত আচরনে চেয়ে দ্যাখো, কী যে দু:খপেয়েছেন ভদ্রমহোদয়গণ, অতএব, নত হও, বিনীত ভঙিতে করজোড়েক্ষমা চাও, পায়ে পড়ো, বলো: কদ্যপি এমনটি হবে না, স্যার,বলো: মধ্যবিত্ত হে বাঙালী ভদ্রমহোদয়গণ,এবারকার মতো ক্ষমা করে দিন… হে আমার প্রিয় বলপেন, দ্যাখো , চোখ তুলে তোমার সামনেকেমন

নত হও, কুর্নিশ করো Read More »

আমাকে খুঁজো না বৃথা

আমাকে খুঁজো না বৃথা -রফিক আজাদ আমাকে খুঁজো না বৃথা কাশ্মীরের স্বচ্ছ ডাল হ্রদে,সুইৎসারল্যান্ডের নয়নলোভন কোনো পর্যটন স্পটে, গ্রান্ড ক্যানালের গন্ডোলায়ও নয়,খুঁজো না ফরাসি দেশে_ পারীর কাফেতে, মধ্যরাতে;রাইন বা মাইনের তীরে, সুবিস্তীর্ণ ফলের বাগানে. . . আমাকে খুঁজো না জাম্বো জেটে,দ্রুতগামী যাত্রীবাহী জাহাজের কিংবা কোনোবৃহৎ সমুদ্রগামী যাত্রীবাহী জাহাজের ডেকে. . . ভুল করে অন্ধ গলি-ঘুঁজি পার হয়ে, যদি

আমাকে খুঁজো না বৃথা Read More »

বৃষ্টি

বৃষ্টি -রফিক আজাদ ১.খররৌদ্রময় এই দিন—শ্যামল বাংলায় বুঝি ফের নেমে আসে খরা!খরতাপে রুদ্ধশ্বাসক্ষুদ্র এই গ্রামীণ শহর,এ রকম এই দিনে চেতনায়ও খরার প্রদাহ—নির্বাচনে হেরে-যাওয়া প্রার্থী যেন: বিরক্ত, বিব্রত;এ রকম দুঃসময়ে এল বৃষ্টির শব্দের মতোসুখকর এই পত্র—প্রাগের প্রাচীর থেকে উড়ে!কুপিত, বিব্রতকর এই রোদে খামটি খুলিনি;আমি তো অপেক্ষা জানি: এই খররৌদ্রে কখনো কিপ্রিয় বান্ধবীর লেখা চিঠি খোলা চলে?অতএব,

বৃষ্টি Read More »

জীবন একটি নদীর নাম

জীবন একটি নদীর নাম -রফিক আজাদ জীবন একটি নদীর নাম,পিতামাতার ঐ উঁচু থেকেনেমে-আসা এক পাগলা ঝোরা—ক্রমশ নিম্নাভিমুখী;পাথুরে শৈশব ভেঙেকৈশোরের নুড়িগুলি বুকে নিয়েবয়ে চলা পরিণামহীনএক জলধারা—গাঙ্গেয় ব-দ্বীপে বেলে-এঁটেল-দোআঁশমাটি ভেঙে-ভেঙে সামনে চলাএক ক্ষুদ্র স্রোতস্বিনী;এই বয়ে চলা পথেবিভিন্ন বৃক্ষের সঙ্গে চলেদ্বিরালাপ;একবার এক বৃদ্ধ অশ্বথের সঙ্গেহয় তার অল্পক্ষণ স্থায়ীআদাব-সালাম বিনিময়,তাকে বলেছিলো সেই বুড়ো:“এ্যাতো তাড়াহুড়ো করো না হে,ধীরে বয়ে যাও,

জীবন একটি নদীর নাম Read More »

নগর ধ্বংসের আগে

নগর ধ্বংসের আগে -রফিক আজাদ নগর বিধ্বস্ত হ’লে, ভেঙ্গে গেলে শেষতম ঘড়িউলঙ্গ ও মৃতদের সুখে শুধু ঈর্ষা করা চলে।‘জাহাজ, জাহাজ’ – ব’লে আর্তনাদ সকলেই করি -তবুও জাহাজ কোনো ভাসবে না এই পচা জলে। সমুদ্র অনেক দূর, নগরের ধারে-কাছে নেই :চারপাশে অগভীর অস্বচ্ছ মলিন জলরাশি।রক্ত-পুঁজে মাখামাখি আমাদের ভালবাসাবাসি;এখন পাবো না আর সুস্থতার আকাঙ্খার খেই। যেখানে রয়েছো স্থির –

নগর ধ্বংসের আগে Read More »

একটি ধ্রুব বিজয়ের জন্য

একটি ধ্রুব বিজয়ের জন্য -মতিউর রহমান মল্লিক একটি ধ্রুপদ বিজয় আমার ভেতরে আগুনের মতো উস্কে দিয়েছে  অনেক অনেক ধ্রুব বিজয়ের নেশাগ্রস্ততা  অথবা নেশারও অধিক এক উদগ্র অতৃপ্তি  তাছাড়া আমার কেবলই মনে হয় যে  একটি ধ্রুপদ বিজয়ই প্রথম বিজয় নয় কিংবা শেষ বিজয়ও হতে পারে না  প্রভাত কি একবারই হয়?  সূর্য কি একবারই ওঠে?  জেয়ার কি

একটি ধ্রুব বিজয়ের জন্য Read More »

বৃক্ষের নামতা

বৃক্ষের নামতা -মতিউর রহমান মল্লিক তুমি কেবলই না না করো  অথচ বিষয়ের প্রতিটি প্রান্তেই কী  ‘না না’-র মতো পতাকা উড়ছে?  তোমাকে আমি বহুবার বলেছি  একটি মরুভূমি দেখলেই  বলে ফেলো না যে-  এখানে আদিগন্ত শূন্যতা  মরুভূমির নিচের পরিপূর্ণতার কথা নাইবা বললাম  আসলে তুমি যেখানে শূন্যতাকে  দেখে নিয়েছো বলে শেষাবধি মুখ ফিরাতে পারলে  ঠিক সেখানে গতকালও উদিত

বৃক্ষের নামতা Read More »

কবি ও কবিতা 

কবি ও কবিতা -মতিউর রহমান মল্লিক কবিতার শব্দ কি সব  অঙ্গ কি তার অমোঘ বিষয়  কবিতার সংজ্ঞা কেবল সন্নিহিত  শরীরের শিল্পকলাই  কবিতার দেহের জন্য  কবি কি দীপ্র মেধার  এতোকাল সবকিছু কি বাইরে থাকে?  কবি কি অলংকারের স্বর্ণঈগল  উপমার জালের ভেতর পালক ঝরায়  এবং সে তার ইচ্ছে মতো দেয় না উড়াল দিগন্তরে  কবি কি ডুব দেবে

কবি ও কবিতা  Read More »