বৃষ্টি

বৃষ্টি -অমিয় চক্রবর্তী কেঁদেও পাবে না তাকে বর্ষার অজস্র জলধারে। ফাল্গুন বিকেলে বৃষ্টি নামে। শহরের পথে দ্রুত অন্ধকার। লুটোয় পাথরে জল, হাওয়া তমস্বিনী; আকাশে বিদ্যুৎজ্বলা বর্শা হানে ইন্দ্রমেঘ; কালো দিন গলির রাস্তায়। কেঁদেও পাবে না তাকে অজস্র বর্ষার জলধারে। নিবিষ্ট ক্রান্তির স্বর ঝরঝর বুকে অবারিত। চকিত গলির প্রান্তে লাল আভা দুরন্ত সিঁদুরে পরায় মুহূর্ত টিপ, […]

বৃষ্টি Read More »

রাত্রি

রাত্রি -অমিয় চক্রবর্তী অতন্দ্রিলা, ঘুমোওনি জানি তাই চুপি চুপি গাঢ় রাত্রে শুয়ে বলি, শোনো, সৌরতারা-ছাওয়া এই বিছানায় —সূক্ষ্মজাল রাত্রির মশারি— কত দীর্ঘ দুজনার গেলো সারাদিন, আলাদা নিশ্বাসে—এতক্ষণে ছায়া-ছায়া পাশে ছুঁই কী আশ্চর্য দু-জনে দু-জনা— অতন্দ্রিলা, হঠাত্ কখন শুভ্র বিছানায় পড়ে জ্যোত্স্না, দেখি তুমি নেই।

রাত্রি Read More »

চিল্কায় সকাল

চিল্কায় সকাল -বুদ্ধদেব বসু কী ভালো আমার লাগলো আজ এই সকালবেলায়, কেমন করে বলি! কী নির্মল নীল এই আকাশ, কী অসহ্য সুন্দর! যেন গুণীর কণ্ঠে অবাধ উন্মুক্ত তান, দিগন্ত থেকে দিগন্তে। কী ভালো আমার লাগল এই আকাশের দিকে তাকিয়ে। চারদিক সবুজ পাহাড়ে আঁকাবাঁকা, কুয়াশায় ধোঁয়াটে, মাঝখানে চিল্কা উঠছে ঝিলকিয়ে। তুমি কাছে এলে, একটু বসলে, তারপর

চিল্কায় সকাল Read More »

নদী-স্বপ্ন

নদী-স্বপ্ন -বুদ্ধদেব বসু কোথায় চলেছো? এদিকে এসো না! দুটো কথা শোনা দিকি এই নাও- এই চকচকে ছোটো, নুতন রূপোর সিকি ছোকানুর কাছে দুটো আনি আছে, তোমারে দেবো গো তা-ও, আমাদের যদি তোমার সঙ্গে নৌকায় তুলে নাও। নৌকা তোমার ঘাটে বাঁধা আছে- যাবে কি অনেক দূরে? পায়ে পড়ি, মাঝি, সাথে নিয়ে চলো মোরে আর ছোকানুরে আমারে

নদী-স্বপ্ন Read More »

মুক্তিযুদ্ধের কবিতা

মুক্তিযুদ্ধের কবিতা -বুদ্ধদেব বসু আজ রাত্রে বালিশ ফেলে দাও, মাথা রাখো পরস্পরের বাহুতে, শোনো দূরে সমুদ্রের স্বর, আর ঝাউবনে স্বপ্নের মতো নিস্বন, ঘুমিয়ে পোড়ো না, কথা ব’লেও নষ্ট কোরো না এই রাত্রি- শুধু অনুভব করো অস্তিত্ব। কেন না কথাগুলোকে বড়ো নিষ্ঠুরভাবে চটকানো হ’য়ে গেছে, কোনো উক্তি নির্মল নয় আর, কোনো বিশেষণ জীবন্ত নেই; তাই সব

মুক্তিযুদ্ধের কবিতা Read More »

শিরোনামহীন

শিরোনামহীন -বুদ্ধদেব বসু ওগো চপল-নয়না সুন্দরী তোলো মোর পানে তব দুই আঁখি, মম শিয়রের কাছে গুঞ্জরি’ গাও সকল অগীত সঙ্গীতে মোর দেহমন রও ঢাকি তব স্বপন-আবেশ-হিল্লোলে, চির- নিত্য-নূতন ভঙ্গীতে ঢেউ তোলো মোর প্রাণ-সিন্ধুতে, সুখে উচ্ছসিয়া ওঠে কল্লোলে ছোটে দুই তট দেশ লঙ্ঘিয়া, চাহে গ্রাসিতে পূর্ণ ইন্দুকে মহা আকাশের দ্যায় রঙ্গিয়া ওগো মোর পিপাসিত যৌবনে কর

শিরোনামহীন Read More »

এই শীতে

এই শীতে -বুদ্ধদেব বসু আমি যদি ম’রে যেতে পারতুম এই শীতে, গাছ যেমন ম’রে যায়, সাপ যেমন ম’রে থাকে সমস্ত দীর্ঘ শীত ভ’রে। শীতের শেষে গাছ নতুন হ’য়ে ওঠে, শিকড় থেকে উর্ধ্বে বেয়ে ওঠে তরুণ প্রাণরস, ফুটে ওঠে চিক্কণ সবুজ পাতায়-পাতায় আর অজস্র উদ্ধত ফুলে। আর সাপ ঝরিয়ে দেয় তার খোলশ, তার নতুন চামড়া শঙ্খের

এই শীতে Read More »

বাংলাই আমাদের

বাংলাই আমাদের -বিষ্ণু দে আমরা বাংলার লোক, বাংলাই আমাদের, এদের ওদের সবার জীবন । আমাদের রক্তে ছন্দ এই নদি মাঠ ঘাট এই আমজাম বন, এই স্বচ্ছ রৌদ্রজলে অন্তরঙ্গ ঘরোয়া ভাষার হাস্যস্নাত অশ্রুদীপ্ত পেশল বিস্তার। চোখে কানে ঘ্রাণে প্রাণে দেহমনে কথায় স্নায়ুতে গঙ্গার পদ্মার হাসি একাকার, সমগ্র সত্তার অজেয় আয়ুতে নিত্য মৃত্যুত্তীর্ণ দুঃখে হর্ষে ছন্দে বর্ণে

বাংলাই আমাদের Read More »

সুজলা সুফলা

সুজলা সুফলা -বিষ্ণু দে সুজলা সুফলা সেই মলয়শীতলা ধরণীভরণী বন্দনীয় মাতৃভূমি ঋষি (ও হাকিম) বঙ্কিমচন্দ্রের সেই গণ-স্তোত্রগান এখনও হয়তো আনন্দের শীর্ষ-চূড়ে কোনো সভায় স্বয়ম্ রবিঠাকুরের সুরে সর্বাঙ্গ শিহরে অচৈতন্য শব্ দব্রহ্মে ধনী সমকণ্ঠে ওঠে সহস্রের গান, পাশের দূরের দেহমনে সমভাব, মৈত্রী — রাখীবন্ধনে শপথে | সে-গান প্রাণের রন্ধ্রে, মন জাগে ধ্রুব ছন্দে, গানে ভাবের সমুদ্র

সুজলা সুফলা Read More »

মনে হয় প্রত্যেকে লেনিন

মনে হয় প্রত্যেকে লেনিন -বিষ্ণু দে তোমাদেরও মনে হয়, মনে হয় তোমারও প্রত্যেকে লেনিন ? লাজুক সুকান্ত ওই কথাটাই বলেছিল কৈশোর সংরাগে বহুদিন আগে – সহজ কিশোর বিনম্র কবি বাংলায় তার কথা শতবর্ষে জাগে | কারণ লেনিন নন দেবতা বা পুরাণ-নায়ক, তিনি একালের বীর, স্থির ধীর, ভাবুক, আত্মস্থ, নেতা, মানবিক ; নিজেকে জাহির কখনোই করেননি

মনে হয় প্রত্যেকে লেনিন Read More »