কখনো আমার মাকে

কখনো আমার মাকে -শামসুর রাহমান কখনো আমার মাকে কোনো গান গাইতে শুনিনি।সেই কবে শিশু রাতে ঘুম পাড়ানিয়া গান গেয়েআমাকে কখনো ঘুম পাড়াতেন কি না আজ মনেই পড়ে না। যখন শরীরে তার বসন্তের সম্ভার আসেনি,যখন ছিলেন তিনি ঝড়ে আম-কুড়িয়ে বেড়ানোবয়সের কাছাকাছি হয়তো তখনো কোনো গানলতিয়ে ওঠেনি মীড়ে মীড়ে দুপুরে সন্ধ্যায়,পাছে গুরুজনদের কানে যায়। এবং স্বামীর সংসারে এসেও মা […]

কখনো আমার মাকে Read More »

তিনি এসেছেন ফিরে

তিনি এসেছেন ফিরে -শামসুর রাহমান লতাগুল্ম, বাঁশঝাড়, বাবুই পাখির বাসা আরমধুমতি নদীটির বুক থেকে বেদনাবিহ্বলধ্বনি উঠে মেঘমালা ছুঁয়েব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায়। এখন তো তিনি নেই, তবু সেই ধ্বনি আজ শুধুতাঁরই কথা বলে;মেঘনা নদীর মাঝি যখন নদীতেভাটিয়ালী সুর তোলে, তারপালে লাগে দীর্ঘদেহী সেই পুরুষের দীর্ঘশ্বাস,যখন কৃষক কাস্তে হাতেফসলের যৌবনের উদ্ভিন্ন উল্লাস দেখে মাতে,তখন মহান সেই পুরুষের

তিনি এসেছেন ফিরে Read More »

বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা

বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা -শামসুর রাহমান নক্ষত্রপুঞ্জের মতো জলজ্বলে পতাকা উড়িয়ে আছো আমার সত্তায়।মমতা নামের প্রুত প্রদেশের শ্যামলিমা তোমাকে নিবিড়ঘিরে রয় সর্বদাই। কালো রাত পোহানোর পরের প্রহরেশিউলিশৈশবে ‘পাখী সব করে রব’ ব’লে মদনমোহনতর্কালঙ্কার কী ধীরোদাত্ত স্বরে প্রত্যহ দিতেন ডাক। তুমি আর আমি,অবিচ্ছিন্ন পরস্পর মমতায় লীন,ঘুরেছি কাননে তাঁ নেচে নেচে, যেখানে কুসুম-কলি সবইফোটে, জোটে অলি ঋতুর

বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা Read More »

একটি কবিতার জন্য

একটি কবিতার জন্য -শামসুর রাহমান বৃক্ষের নিকটে গিয়ে বলি ;দয়াবান বৃক্ষ তুমি একটি কবিতা দিতে পারো ?বৃক্ষ বলে আমার বাকল ফুঁড়ে আমার মজ্জায়যদি মিশে যেতে পারো, তবেহয়তো বা পেয়ে যাবে একটি কবিতা ! জীর্ণ দেয়ালের কানে বলি ;দেয়াল আমাকে তুমি একটি কবিতা দিতে পারো ?পুরোনো দেয়াল বলে শ্যাওলা-ঢাকা স্বরে,এই ইঁট সুরকির ভেতর যদি নিজেকে গুঁড়িয়ে দাও,

একটি কবিতার জন্য Read More »

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা -শামসুর রাহমান তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা,তোমাকে পাওয়ার জন্যেআর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায় ?আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন ? তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,সাকিনা বিবির কপাল ভাঙলো,সিঁথির সিঁদুর গেল হরিদাসীর।তুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,শহরের বুকে জলপাইয়ের রঙের ট্যাঙ্ক এলোদানবের মত চিৎকার করতে করতেতুমি আসবে ব’লে, হে স্বাধীনতা,ছাত্রাবাস বস্তি উজাড হলো। রিকয়েললেস

তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা Read More »

হনহন পনপন

হনহন পনপন -সুকুমার রায় চলে হনহন       ছোটে পনপন ঘোরে বনবন       কাজে ঠনঠন বায়ু শনশন       শীতে কনকন কাশি খনখন       ফোঁড়া টনটন মাছি ভনভন       থালা ঝন ঝন।

হনহন পনপন Read More »

‘ভাল ছেলের’ নালিশ

‘ভাল ছেলের’ নালিশ -সুকুমার রায় মাগো!প্রসন্নটা দুষ্টু এমন! খাচ্ছিল সে পরোটাগুড় মাখিয়ে আরাম ক’রে বসে -আমায় দেখে একটা দিল ,নয়কো তাও বড়টা,দুইখানা সেই আপনি খেল ক’ষে!তাইতে আমি কান ধরে তার একটুখানি পেঁচিয়েকিল মেরেছি ‘হ্যাংলা ছেলে’ বলে-অম্‌নি কিনা মিথ্যা করে ষাঁড়ের মত চেচিয়েগেল সে তার মায়ের কাছে চলে! মাগো!এম্‌নিধারা শয়তানি তার, খেলতে গেলাম দুপুরে,বল্‌ল, ‘এখন খেলতে আমার

‘ভাল ছেলের’ নালিশ Read More »

অতীতের ছবি – পর্ব ৬

অতীতের ছবি – পর্ব ৬ -সুকুমার রায় ধরি নব পথ নূতন ধারানবীন প্রেরণে আসিল যারা,আজি তাঁহাদের চরণ ধরিভক্তিভরে সবে স্মরণ করি।শাস্ত্রী শবনাথ সকল ফেলিবিষয় বাসনা চরণে ঠেলিবহু নির্যাতন বহিয়া শিরে,অনুরাগে ভাসি নয়ন নীরে,সর্বত্যাগী হয়ে ব্যাকুল প্রাণেছুটে আসে ওই কিসের টানে,দেখ ওই চলে পাগলমতভক্তশ্রেষ্ট বীর বিনয়নত,বিজয় গোঁসাই সরল প্রাণ-হেরি আজি তাঁই প্রেম বয়ান।সাধু রামতনু জ্ঞানে প্রবীণ,শিশুর

অতীতের ছবি – পর্ব ৬ Read More »

অতীতের ছবি – পর্ব ৫

অতীতের ছবি – পর্ব ৫ -সুকুমার রায় সমাজে সুদিন এল আবার,ক্রমে প্রসারিল জীবন তার।কেশব আপন প্রতিভা বলেযতনে গঠিল যুবকদলে।নগরে নগরে হল প্রচার-“ধর্ম রাজ্যে নাহি জাতিবিচার;নাহি ভেদ হেথা নারী ও নরে,ভক্তি আছে যার সে যায় ত’রে।জাতিবর্ণ- ভেদ কুরীতি যতভাঙি দাও চিরদিনের মত।দেশ দেশান্তরে ধাঊক মন,সর্বধর্মবাণী কর চয়ন;ধর্মে ধর্মে নাহি বিরোধ রবে,মহা সমম্বয় গঠিত হবে।”পশিল সে বাণী

অতীতের ছবি – পর্ব ৫ Read More »

অতীতের ছবি – পর্ব ৪

অতীতের ছবি – পর্ব ৪ -সুকুমার রায় ধনী যুবা এক শ্মশান ঘাটেএকা বসি তার রজনী কাটে।অদূরে অন্তিম শয়নোপরিদিদিমা তাহার আছেন পড়ি,সম্মুখে পূর্ণিমা গগনতলেপিছনে শ্মশানে আগুন জ্বলে,তাহারি মাঝারে নদীর তীরেহরিনাম ধ্বনি উঠিছে ধীরে।একাকী যুবক বসিয়া কুলেসহসা কি ভাবি আপনা ভুলে।প্রসন্ন আকাশ চাঁদিম রাতিধরিল অপূর্ব নতুন ভাতি,তুচ্ছ বোধ হল ধন – বিভববিলাস বাসনা অসার সব,অজানা কি যেন

অতীতের ছবি – পর্ব ৪ Read More »