তুলনামূলক হাত

তুলনামূলক হাত -নির্মলেন্দু গুণ তুমি যেখানেই স্পর্শ রাখো সেখানেই আমার শরীর৷তোমার চুলের ধোয়া জল তুমি যেখানেইখোঁপা ভেঙ্গে বিলাও মাটিকে;আমি এসে পাতি হাত, জলভারে নতদেহ আরচোখের সামগ্রী নিয়ে ফিরি ঘরে, অথবা ফিরি না ঘরে,তোমার চতুর্দিকে শূন্যতাকে ভরে থেকে যাই৷ তুমি যেখানেই হাত রাখো, যেখানেই কান থেকেখুলে রাখো দুল, কন্ঠ থেকে খুলে রাখো হার,সেখানেই শরীর আমার হয়ে ওঠে […]

তুলনামূলক হাত Read More »

ফুলদানি

ফুলদানি -নির্মলেন্দু গুণ যেকোনো বাগান থেকে যেটা ইচ্ছে সেই ফুল,যেকোনো সময় আমি তুলে নিয়ে যদি কভুতোমার খোঁপায়, আহা, অজগর তোমার খোঁপায়সাজাবার সুজোগ পেতাম–; তাহলে দেখতে লীলা,তোমার শরীর ছুঁয়ে লাবণ্যের লোভন ফুলেরাউদ্বেল হৃদয়ে নিত্য বিপর্যস্ত হতো, মত্ত মমতায়বলতো আশ্চর্য হয়ে, হতো বলতেইঃ‘খোঁপার মতন কোনো ফুলদানি নেই৷’

ফুলদানি Read More »

বসন্তচিত্র

বসন্তচিত্র -নির্মলেন্দু গুণ একজন চিত্রক্রেতার সবিনয় অনুরোধেআমি আঁকতে বসেছি একটি আমগাছের ছবি—যে তার দেহচ্ছায়া রামসুন্দর পাঠাগারেরসবুজ টিনের চালের ওপরে বিছিয়ে দিয়েছে। গাছের সবুজ পাতারা সবইপ্রায় ঢাকা পড়েছেহালকা হলুদ রঙের অজস্র বোলের আড়ালে।এত আমের বোল আমি আমার জন্মে দেখিনি।একটা মদির-গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসে।ফুলে ফুলে, ডালে ডালে, পল্লবে পল্লবেমৌমাছি ও লক্ষ-কোটি কীট-পতঙ্গের ভিড়।তারা মধুর সমুদ্রে অবগাহনের আনন্দে অস্থির। বসন্তের

বসন্তচিত্র Read More »

তোমার চোখ এতো লাল কেন?

তোমার চোখ এতো লাল কেন? -নির্মলেন্দু গুণ আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে , আমি চাইকেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করুক,শুধু ঘরের ভেতর থেকে দরোজা খুলে দেবার জন্য ।বাইরে থেকে দরোজা খুলতে খুলতে আমি এখন ক্লান্ত । আমি বলছি না ভালোবাসতেই হবে, আমি চাইকেউ আমাকে খেতে দিক । আমি হাতপাখা নিয়েকাউকে আমার পাশে বসে থাকতে বলছি না,আমি

তোমার চোখ এতো লাল কেন? Read More »

বউ

বউ -নির্মলেন্দু গুণ কে কবে বলেছে হবে না? হবে,বউ থেকে হবে ।একদিন আমিও বলেছিঃ ‘ওসবে হবে না ।’বাজে কথা। আজ বলি, হবে, বউ থেকে হবে ।বউ থেকে হয় মানুষের পুনর্জন্ম, মাটি,লোহা,সোনার কবিতা, —কী সে নয়? গোলাপ, শেফালি, যুঁই, ভোরের আকাশে প্রজাপতি,ভালোবাসা, ভাগ্য, ভাড়াবাড়ি ইতিপূর্বে এভাবে মিশেনি ।ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল, দুইজন্ম এবার মিশেছে, দেখা যাক । হতচ্ছাড়া ব্যর্থ

বউ Read More »

বসন্ত বন্দনা

বসন্ত বন্দনা -নির্মলেন্দু গুণ হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্র-সঙ্গীতে যতো আছে,হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরেবনের কুসুমগুলি ঘিরে । আকাশে মেলিয়া আঁখিতবুও ফুটেছে জবা,–দূরন্ত শিমুল গাছে গাছে,তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্তপথিক । এলিয়ে পড়েছে হাওয়া, ত্বকে কী চঞ্চল শিহরণ,মন যেন দুপুরের ঘূর্ণি-পাওয়া পাতা, ভালোবেসেঅনন্ত সঙ্গীত স্রোতে পাক খেয়ে মৃত্তিকার বুকেনিমজ্জিত হতে চায় । হায় কী

বসন্ত বন্দনা Read More »

দু’জনের ভাত

দু’জনের ভাত -নির্মলেন্দু গুণ গত রাত্রির বাসী ভাত খেতে খেতেমনে কি পড়ে না? পড়ে ।ভালো কি বাসি না? বাসি ।শ্লথ টেপ থেকে সারা দিন জল ঝরে,সেই বেনোজলে এঁটো মুখ ধুয়ে আসি । গত রাত্রির বাসী ভাত খেতে খেতেপ্রেম কি জাগে না? জাগে ।কিছু কি বলি না? বলি ।তিতাস শিখায় যতটুকু তাপ লাগে,অনুতাপে আমি তার চেয়ে বেশি

দু’জনের ভাত Read More »

অভিশাপ দিচ্ছি

অভিশাপ দিচ্ছি -শামসুর রাহমান আজ এখানে দাড়িয়ে এই রক্ত গোধূলিতেঅভিশাপ দিচ্ছি।আমাদের বুকের ভেতর যারা ভয়ানক কৃষ্ঞপক্ষদিয়েছিলো সেঁটে,মগজের কোষে কোষে যারাপুতেছিলো আমাদেরই আপনজনের লাশদগ্ধ, রক্তাপ্লুত,যারা গনহত্যাকরেছে শহরে গ্রামে টিলায় নদীতে ক্ষেত ও খামারেআমি অভিশাপ দিচ্ছি নেকড়ের চেয়েও অধিকপশু সেই সব পশুদের।ফায়ারিং স্কোয়াডে ওদেরসারিবদ্ধ দাঁড়করিয়ে নিমিষে ঝা ঝা বুলেটের বৃষ্টিঝরালেই সব চুকে বুকে যাবে তা আমি মানি

অভিশাপ দিচ্ছি Read More »

বন্দী শিবির থেকে

বন্দী শিবির থেকে -শামসুর রাহমান ঈর্ষাতুর নই, তবু আমিতোমাদের আজ বড় ঈর্ষা করি। তোমরা সুন্দরজামা পরো, পার্কের বেঞ্চিতে বসে আলাপ জমাও,কখনো সেজন্যে নয়। ভালো খাও দাও,ফুর্তি করো সবান্ধবসেজন্যেও নয়। বন্ধুরা তোমরা যারা কবি,স্বাধীন দেশের কবি, তাদের সৌভাগ্যেআমি বড়ো ঈর্ষান্বিত আজ।যখন যা খুশিমনের মতো শব্দ কী সহজে করো ব্যবহারতোমরা সবাই।যখন যে শব্দ চাও, এসে গেলে সাজাও পয়ারে,কখনো

বন্দী শিবির থেকে Read More »

সুধাংশু যাবে না

সুধাংশু যাবে না -শামসুর রাহমান পাগলামী করিসনে বন্ধু সুধাংশুসময় যে পার হয়ে যাচ্ছেএবার যে তোর পালানোর বেলাজিদ করিসনে বন্ধু, এখনই তুই পালা।জানি তুই কী ভাবছিস বন্ধু সুধাংশুদাঁড়িয়ে হাহাকারের ছোঁয়ায় জড়ানো শ্মশানসম বাস্তুভিটায়সেই হারিয়ে যাওয়া প্রাণচঞ্চল দিনগুলো, আমাদের ছেলেবেলাকিন্তু এবার যে তোর পালানোর বেলা, এবার তুই পালা।আমি জানি নির্বাক দাঁড়িয়ে তুই কী ভাবছিস বন্ধু সুধাংশুসেই একপাল

সুধাংশু যাবে না Read More »